কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪

চাঁদতারা

 


।। অশোকানন্দ রায়বর্ধন।।


সূর্য আঁধারে ঢাকে আবার আলো ছড়ায়।

আলো আঁধারি তার অনিবার্য দিনপঞ্জী ।

আলোর সড়কপথে চলতে চাই

তাই ভালোবাসি আলোকে ।


যেখানে সেখানে হাত প্রসারিত করলে 

কাটা যেতে পারে প্রণয়মুখী হাত 

হাত ধরব তো সহযোদ্ধার


চাঁদতারা আজও আকাশে ওঠে 

কিন্তু তারা মিশুকে নয়। কথা বলেনা। 

অলক্ষ্যে কেউ শাসায় কিনা তাও জানিনা।


একঝাঁক উদার তারা আর প্রেমময় চাঁদ 

                        দাওনা আকাশে হে গোবিন্দ 

আমি ডুবে মরি রাইয়ের সাথে।।


রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০২৪

খাদ্যই মূখ্য কবিতা ছাড়

 


।। আরিফুল ইসলাম ।।

 

অথচ,

তিনি বললেন,

আমাকে একবেলা খাবার দাও

আমি তোমাকে

এক ফর্মা কবিতা দেবো ।

 

যদি,

তিনবেলা খাবার দাও,

এক ডায়েরি কবিতা পাবে ।

 

 

মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০২৪

দোকানদার

 


।। মুজিব ইরম ।।

 

খুলে রাখি টংঘর মুদির দোকান

আমাদের গ্রামে

বসে থাকি

তেপথী পথের মোড়ে

চেয়ে চেয়ে দেখি

ফুটে থাকে জারুল হিজল

ধানগাছ গর্ভবতী হয়

বৃষ্টি নামে

বৃষ্টি ধরে

খালগুলি নদী হয়ে ওঠে

 

আমি বড়ো ব্যবসায়ী লোক

খুলে রাখি টংঘর মুদির দোকান

তোমাদের খালপাড়ে আমাদের গ্রামে।

শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৪

স্বেচ্ছাচার

 


।। আনওয়ারুল হক বড়ভূইয়া ।।

 

আমিও মানসিকভাবে কিন্তু

চরম পীড়িত

জীবনের হাতে দশে দেশে

 

আমাদের অন্তর্গত সমস্ত

রক্ত আর বীর্য

শুধু জল থেকে জলই হয়

 

মায়ের গর্ভ দিয়ে আবার

ফিরে যেতে চাই

বাবার ঔরসে, নিরাপদে

 

আমাকে শিক্ষা দেয়া হয়

গন্ধ আছে তার

হোক না সে প্লাস্টিকের ফুল

 

এখানে শুধু একটাই কাজ

অন্ধকার চুরি

আর আগুন থেকে আগুন ফেরি

 

সোমবার, ১১ মার্চ, ২০২৪

বিপন্নতার স্রোতে ভাসে নারী

 


।। সজল দাস ।।

 

নিরাপত্তা নেই যেখানে, স্বাধীনতার প্রশ্নই উঠে না-

কেবল বিপন্নতার স্রোতে ভাসে নারী।

 

এই ভারতবর্ষ গণতান্ত্রিক দেশ, নারী নির্যাতনের মুক্ত ময়দান।

শুধু শারীরিক নয়, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয় প্রতিদিন।

 

এই ভারতবর্ষেই গণচেতনা, মানবতার মূল্যায়নে

জন্ম নিলেন ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈ-প্রীতিলতা ওয়াদ্দার।

যে দেশে নারী আন্দোলের এত নিশানা,

এখনও সেই দেশে সীতা-সাবিত্রী-বেহুলাদের মত

নিষ্পাপ নারীরা, খুন হয়ে আসছে।

 

পুরুষতন্ত্রের নষ্ট নিয়মই খুনি।...

 

প্রতিদিন চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটা মৃত লাশ-

তোমার মানসিক মৃত্যুতে মানবতা চাপা পড়ে যায়,

 

তোমার ব্যর্থতাকে অনায়াসেই গ্রহণ করে নিতে পারতাম

শুধু সমাজ-ধর্মের ভয়ে নিজেকে বিরত রাখতে হল।

শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

অপেক্ষা

               ।। অভিজিৎ দাস ।।

 

আকাশ পানে চাহিয়া আমি,

 চাঁদের আলোয় গা ভাসাই।

 আলোর স্পর্শে তোমায় খুঁজে,

 পূর্ণিমা দিয়ে মন জুড়াই।

 

 আমি মগ্ন হলাম তোমার প্রেমে,

 হৃদয়ে তোমার বাঁধবো ঘর।

 আমি সন্ধ্যাতারা হয়ে রবো,

 যদি না করো আমায় পর।

 

 তোমায় তারার মত সাজিয়ে নেব,

 ঘর করবো আলোকিত।

 তোমার আলোর জ্যোৎস্না মেখে,

 মন করবো পুলকিত।

 

 আমার হাতে তোমার হাতটি রেখে,

 পার করিব দিগন্ত।

 তোমার আশায় বসে থেকে,

 মন হয়েছে উড়ন্ত।

রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

এক নতুন সকাল

 


।। সুলতা রানি দাস ।।

 

আমরা দেখেছিলাম এক নতুন সকাল

দেখেছিলাম  এক নতুন রবি

 বুকের মধ্যে রক্ত নিয়ে

লড়েছিলাম স্বাধীনতার লড়াই

 

আমরা শুনেছি শহিদের জয়গান,

হাসতে হাসতে যারা হয়েছে শহিদ

 দিয়েছে বলিদান।

 

আমরা বুনেছিলাম ঐক্য আর  শান্তির পরিধান

সকল জাতি, ভাষা বর্ণ

আমাদের জন্যে সমান।

 

আমরা সবাই ভারতবাসী, গাই বিজয়ের জয়গান,

নিজের সুখের জন্যে কখনো

করবো না অন্যের উপর প্রহার।

 

আমরা এই শপথ নিয়ে গড়বো নতুন স্বপ্ন,

হিংসা-দ্বেষ মুছে দিয়ে

 নেবো একে অপরের  যত্ন।

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ছোট জাতের মেয়ে

 

   ।। সুনীল রায় ।।

 

আজ থেকে প্রায় দু শত বছর আগে

নাম সাবিত্রী, জন্মেছিল মালীর কুলে

বাবা ঠাকুরদারা ফুল ফুটোয় তাই ফুলে,

কত লোকে ঘৃণা করত ছোট জাত বলে।

সেই সাবিত্রী যখন  মাত্র আঠার হলো

স্বামীর সাহায্যে মেয়েদের স্কুল খুলেছিল।

প্রথম নারী বিদ্যালয় ভারত উপমহাদেশে,

নারী শিক্ষার প্রথম প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত হলো।

আরও এক ছোট জাতের মেয়ে নাম রাসমণি

দু শত ত্রিশ বছর আগে বঙ্গে জন্মে ছিলেন যিনি।

উচ্চ বর্ণের বিরোধেও গড়েন মন্দির মায়ের

দক্ষিণেশ্বর কালী বাড়ি আজ আস্থা সকলের।

পাগল ঠাকুর রামকৃষ্ণকে চিনেছিলেন যিনি

সেই ছোট জাতের মেয়ে প্রণম্য রানী রাসমণি,

বঙ্গ দেশের রাসমণি তেজে ছিলেন ঝান্সির রানী।

মানুষ মানুষই হয় ছোট বড় কর্মে তাকে চিনি।।

সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

কবিতা

    আদিমা মজুমদার
 
কবিতা আমার মায়ের মুখ
বাবার শাসন,
কই যাস, বড় হয়ে গেছিস বুঝি?
কবিতা আমার চাতালের ধান
সোনালি ধানে শালিকের খুনসুটি।
কবিতা আমার বিধবা পিসি
আকাশ নীল সাদা থান।
কবিতা আমার বিকল্প পরিবার
একটাই জায়গা নিজেকে চেনার।
কবিতা আমার কাশ্মীর ফাইল
প্রপাগেন্ডার কি নিদারুন স্টাইল।
কবিতা আমার ডাস্টবিন থেকে
কুড়িয়ে খাওয়া আওয়ারা শিশু।
কবিতা আমার চুল দাড়ি না কামানো
ফুটপাতে বসা মলিন রবীন্দ্রনাথ।
যার জোব্বা জল মাখেনি অনেকদিন।
কবিতা আমার নিত্য মার খাওয়া
চার বাড়ি কাজ করা পুতুলি দাস।
কবিতা আমার রোজকার দীর্ঘশ্বাস
কবিতা আমার আঁধার রাতের পেট্রমাক্স।
কবিতা আমার শ্রেণী সংগ্রামের হাতিয়ার
ভাতের সাথে রক্ত মাখে পাকস্থলী ভর্তি করে।
কবিতা আমার জাগ্রত চেতনার খোলা খাতা
বন্ধক দিয়েছি আম্বানীর রিলায়েন্স কোম্পানিতে।

শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

দূরত্বের নির্জনতায়

              ।। চন্দ্রিমা দত্ত ।।

 

সবকিছুর সাথে দূরত্ব বেড়ে গেলে

বুঝি, কোনও এক ঝড়োরাত্রি আসন্ন-

মনে হয়  যে ক্ষত শুশ্রুষাযোগ্য  নয়

তারজন্য  অকারণ চিন্তা কেন?

সবার জন্য আরোগ্যনিকেতন নয়

আনন্দনিকেতনও নয় ...

 

দূরত্ব এক আগুনরেখা, ঝলসে যায় পা,

দূরত্ব এক উদাস-আখড়ার ক্লান্ত সুরে

বৈষ্ণবীর  বিষাদ-যাপন কথা ...

যা চলে যায় যেতে দিতেই হয়

যে থাকবে না সে যাবেই সুদূর

আদর্শ, স্বপ্ন, বিপ্লবী ও বিপ্লবের উত্থান

সব-ই একদিন অর্ধসমাপ্ত গল্পে থেকে যায়,

হারিয়ে যায়, 'স্মৃতিঘর' পরে রয় একা নির্জনে ...

 

দূরত্বে ও নির্জনে  রচিত হয় যে বন্ধুত্ব

অন্তহীন প্রবাহে মায়া-জীবনে এটুকুই সত্য –

বিবর্ণ

 


।। মৃদুলা ভট্টাচার্য ।।

 

সৃষ্টির তুলিতে যে গভীরতা রয়েছে

বোধের সচেতন অঙ্কুরিত বীজ

তা কজন জানে! ছড়ানো জনজীবনে

রহস্যের মায়াজাল বোনা হচ্ছে

অন্তরালে ব্যাপক বিশালতা

প্রতিনিয়ত আবদ্ধ মানবিক বোধ!

বিদ্বেষ আর হিংসার সাম্প্রদায়িক ভূমিতে

ওইসব বীজের অঙ্কুর মুষড়ে অজানা

এক অমোঘ ছায়ায় সমাজ নামক শরীরে

লেপন করা হয় কর্দমাক্ত বিবর্ণ রঙ

অজানা আতঙ্ক আশঙ্কায় টুটিটিপে

ভালবাসার সবুজ হৃদয়।


পতাকার রঙ

 


।। শ্রীমান দাস ।।

 

উড়ালপুলের তলা যার ঘর

ফুটপাত যার উঠোন,

তার কাছে তো বহুকাল আগেই

ফিকে হয়ে গেছে পতাকার রঙ।

 

তার অর্ধাহারী পেট জানে

দুটো পোড়া রুটির জন্যেও

কতটুকু স্বাধীনতা বিক্রি করেছে সে।

 

তার কাছে অর্থহীন যত প্রতিশ্রুতি

ইশতেহার কিংবা ভিশন ডকুমেন্ট,

অমৃত মহোৎসব - সে তো বড্ড তেতো!

 

কতো রঙের পতাকার বাতাস লেগেছে গায়,

শুকায়নি তবু বঞ্চিত শরীরের ঘাম

দেয়নি কেউ দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তা।


কেন এসেছো!?

 


।। পিঙ্কী দাস ।।

ওহে ঊনিশ কেন এসেছ তুমি?

লাল টগবগে সব ফুল নিয়ে।

ওহে ঊনিশ কেন এসেছ তুমি?

এত আনন্দ উত্তেজনা নিয়ে

শহীদের মায়ের বুকে আঘাত দিতে?

উত্তর দাও! আমায় উত্তর দাও!

 

উত্তরে "ঊনিশ" বলে উঠে-

ওহে শহীদের মাতা

আমি এসেছি কেন জানো?

তোমার বুকে ১৯৬১-র আঘাত দিতে নয়

আমি এসেছি

১৯ শে‌ মে আর লাল ফুল নিয়ে

ভাষার সে শহীদদের বরণ করতে

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় পোষ্ট

আকর্ষণীয় পোষ্ট

প্রান্তিক জীবন যেখানে রোদ্দুর লিখতে চায়

। চন্দ্রিমা দত্ত । অনলাইন থেকে মুদ্রিত সংস্করণ 'প্রতাপ' প্রথম খণ্ড যেদিন সম্পাদক কবি শৈলেন দাস আমার হাতে এনে দিল খুব আনন্দ হচ্ছিল আম...