সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রান্তিক জীবন যেখানে রোদ্দুর লিখতে চায়

। চন্দ্রিমা দত্ত ।

অনলাইন থেকে মুদ্রিত সংস্করণ 'প্রতাপ' প্রথম খণ্ড যেদিন সম্পাদক কবি শৈলেন দাস আমার হাতে এনে দিল খুব আনন্দ হচ্ছিল আমার কারণ 'প্রতাপ'-এর জন্মলগ্ন থেকেই আমি এই ছোট পত্রিকাটিকে জানি এবং স্নেহ করি। স্নেহ করি সেই শৈলেনকে  যে অল্প বয়স থেকে সাহিত্যকে ভালোবেসে লেখার জগতে আসে এবং একটি ছোট পত্রিকা করার স্বপ্ন দেখেছিল। সেইসাথে স্বপ্ন দেখেছিল একটি সুন্দর, সমঅধিকারে গড়ে ওঠা  সুষ্ঠু সমাজের যেখানে মানুষ মানুষকে সম্মান করে। সেই স্বপ্ন দেখার কারণ- তার সেই প্রথম যৌবনের দিনগুলো দেখেছিল প্রান্তিকায়িত মানুষের নানা বঞ্চনা এবং অসাম্য। দেখেছিল উচ্চশ্রেনীর মানুষের আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের প্রতি নিম্ন মানসিকতা। ক্রমে শৈলেন বড় হলো, তার ছোট পত্রিকা- 'প্রতাপ' জন্ম নিলো এবং পরবর্তী পর্যায়ে পরিচিতি গড়ে উঠতে থাকে নতুন আশা-আকাঙ্ক্ষায়। শৈলেনও শিক্ষকতার পেশার সাথে জড়িত হলে জীবন নানাভাবে বিস্তার লাভ করে। চিন্তা-চেতনার শেকড়ও গভীরে প্রোথিত হয়। শৈলেন আজ সামাজিক কাজকর্মে সক্রিয় মানুষ আর সেখানে তাকে সাহায্য করছে তার ছোট পত্রিকা 'প্রতাপ' যা আজ সাহিত্যের এক উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মও বটে নতুন লেখাকর্মীদের কাছে।

এই মুদ্রিত সংস্করণে সম্পাদক শৈলেন দাস লিখেছেন- " আজ আমরা অনলাইন থেকে নির্বাচিত কিছু লেখা নিয়ে এই যে মুদ্রিত সংস্করণ প্রথম খণ্ড প্রকাশের পথে, তা নিছক একটি বই নয়- এটি অনলাইন সৃজনযাত্রার প্রথম মাইল ফলক। একদিকে প্রযুক্তির স্পর্শে বদলে যাওয়া  পাঠাভ্যাস, অন্যদিকে কাগজের পৃষ্ঠায় ছাপা লেখার প্রতি মানুষের চিরন্তন ভালোবাসা ... " আসলে যতই অনলাইন লেখাপত্র আমরা পড়ি না কেন ছাপার অক্ষরের প্রতি লেখক, পাঠক সকলেরই এক নিবিড় আগ্রহ এবং ভালোবাসা রয়েছে। তাই এই সংকলনের সিদ্ধান্ত শৈলেনের অবশ্যই  এক শুভ উদ্যোগ বলবো

আসি এবারের সংখ্যার কথায়। এ সংখ্যায় নবীনে প্রবীণে মিলিয়ে ২৯জন লেখকের (কবি-গল্পকার মিলিয়ে) লেখা গ্রন্থিত হয়েছে। মমতা চক্রবর্তী, আদিমা মজুমদার, সীমা ঘোষ, স্বাতীলেখা রায়, কাত্যায়ণী দত্ত চৌধুরী, শৈলেন দাস তারা অনেকদিন থেকেই  লিখেছেন এবং সেখানে আমরা দেখি যথেষ্ট ভাবনা-চিন্তার ফসল এই লেখাগুলোতে  সমাজ ও জীবনের নানা ধারার প্রতিফলন। সাহিত্য আঙ্গিনায় নবাগত যারা লিখেছেন তারাও যথেষ্ট ভালো লেখার চেষ্টা করেছেন, তাদের অনুভব বা নরম অভিজ্ঞতার একটা মায়া জড়ানো আছে লেখাগুলোতে তবু বলবো তারা আরও একটু চিন্তা-চর্চার সান্নিধ্য পেলে ভবিষ্যতে তাদের লেখাপত্র আরও চমৎকার হয়ে উঠবে। আসলে সাহিত্যবোদ্ধাদের সঙ্গ পেলে, পড়ার পরিসর গভীর হলে নতুন লেখকদের দৃষ্টি সম্প্রসারিত হয়, অনুপ্রেরণা আসে, লেখায় মেধার দীপ্তি আসে।

এবার লেখাগুলো একটু ছুঁয়ে দেখা যাক। গল্প, মুক্ত-গদ্য, এবং ভ্রমণ সবই খুব সংক্ষিপ্তভাবে লেখা কারণ বড় লেখার সুযোগ এখানে নেই কিন্তু বিন্দুতেই সিন্ধু দর্শন হয় যদি লেখার মুনশিয়ানা থাকে। আমিও ব্যক্তিগত সময়ের অভাবে সংক্ষিপ্ত ভাবেই অনুভবটুকু লিখছি।

সুজিতা দাসের গল্প- 'একটি কালো মেয়ের গল্প', যেখানে গল্প এগিয়েছে একটি পরিবারের কন্যা যার গায়ের রং কালো তাকে ঘিরে। আর এই কালো রংয়ের জন্যই মেয়েটিকে নানা অবহেলা করা হয় পরিবারে, যেখানে পড়াশুনো করতেও বাঁধা দেন মা। তাঁদের কথা- গায়ের রং যেহেতু কালো লেখাপড়া করে কী হবে? বরং সংসারের যাবতীয় শিখুক, ভবিষ্যতে কাজে আসবে। সমস্ত লাঞ্ছনা, অবহেলা, অবজ্ঞা অতিক্রম করে মেয়েটির মেধা ও বিশ্বাসই এক পরম আলো হয়ে ওঠে। এই পজিটিভ ভাবনা গল্পটির মূল সুর। পড়ে ভালো লেগেছে তবে লেখক গল্প লেখার ক্ষেত্রে আরও খুঁটিনাটি বিষয় ভেবে দেখে আরও একটু যত্নশীল হলে অন্যমাত্রা যোগ হতো গল্পটিতে।

'টুকরো বনের গল্প'- কাত্যায়ণী দত্ত চৌধুরী এই সুন্দর গদ্য লেখাটির মধ্য দিয়ে আমাদের এক উত্তম অভিজ্ঞতা শোনালেন যা বড়ই মনোগ্রাহী। প্রকৃতি মানুষের এক ও অদ্বিতীয় বন্ধু। বন্ধু হিসাবে, মা হিসাবে তাকে যত্ন করলেই মানুষের সার্বিক মঙ্গল। এই কথা বার বার সব মনীষীরাই উচ্চারণ করে গেছেন। আমরা এখানেও আবার শুনলাম। লেখার শিরোনামটি খুব সুন্দর। 

'বিশ্বপ্রেম' নিয়ে যোগেন্দ্র চন্দ্র দাস সংক্ষিপ্ত কিন্তু সুন্দর একটি লেখা দিয়েছেন যেখানে স্বার্থহীন উদার মানবিক  সম্পর্কের কথা বলেছেন যা আজ এই অস্থির সময়ের দাবী।

রাহুল দাসের 'একটি পবিত্র তীর্থস্থান নুনকুলি' পড়ে যতটুকু জানলাম তা আমার আগে জানা হয়নি। এই লেখাটি পড়ে অনেক পাঠকরাও জানবেন এবং ভ্রমণে আগ্রহী হবেন আমার বিশ্বাস। প্রকৃতির অনেক রহস্য মিথ হয়ে ধর্ম বিশ্বাসে রূপান্তরিত হয়ে  মানুষকে সুন্দরে বেঁচে থাকার রসদ জোগায় বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকাতে। প্রান্তিক জনজীবনকে আমাদের মানে অতি আধুনিকদের আর দেখা হয় কোথায়!! আমরা নিজেদের নিয়েই অতিব্যস্ত। পাঠক হিসাবে তাই নুনকুলি নিয়ে আগ্রহ জন্মে।

শিপ্রা দাশের দু'টি গল্প- 'আশা' এবং 'অদ্ভুত হাসি'- প্রথমটি যন্ত্রণার, দ্বিতীয় গল্প কিছুটা রহস্য ঘেরা। ভালোই লেগেছে পড়ে তবে আমার মনে হয়েছে- গল্প দু'টো আর একটু টানটান হতো যদি লেখক কিছু শব্দের ব্যবহারে ঘটনায় একটু চমক আনতেন। আগামীতে নিশ্চয়ই আমরা শিপ্রা দাশের নিটোল গল্প পড়ব। 

'মা, যে কথাগুলো তোমায়  বলা হয়নি' - পুষ্পিতা দাসের এই আবেগঘন লেখা নিয়ে কিছু বলা মানে বেমানান হবে কারণ এখানে - এই লেখায় জড়িয়ে আছেন - মা নামে এক অনন্ত আলো; আর আছে সন্তানের বেদনা। মাতৃত্ব এক অতুলনীয় ব্যপার। মা সেখানে বটবৃক্ষ হয়ে সন্তানকে জড়িয়ে থাকেন। অল্প বয়সে আমরা অনেক সময় সেই স্নেহের মহিমা বুঝি না তাই ম্যাচিওরিটি এলে বড় আপশোষ হয় এই ভেবে যে- আমাদের কর্তব্য পালনে কত ত্রুটি রয়ে গেলো!!

সীমা ঘোষ 'ভয়' গল্পের ছোটপরিসরেই সাধারণ মানুষের জীবনযুদ্ধ ও সমাজের অব্যবস্থার বিষয়টি সেইসাথে  অসম লড়াইয়ে হেরে যাবার ভয়কে তপতীর মধ্য  দিয়ে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই ভয়ের কাছে সত্যিই অসহায় আর্থিকভাবে ক্ষমতাহীন মানুষরা।

কবিতা যারা লিখেছেন- রুমা দাস, সুচরিতা দাস, মঙ্গলা দত্ত রিমি, সুস্মিতা দাস চৌধুরী, রঞ্জন কুমার বনিক, পিংকী দাস, অপর্ণা কুমার, গোপেন দাস, আব্দুল হালিম বড়ভূইয়া, সদয় দাস, আকাশ ধর, রিপন দাস, মীনাক্ষী নাথ, প্রমীলা দাস, চয়ন ঘোষ, প্রিয়তোষ শর্মা, পল্লব দে, সুরজ কুমার নাথ ... বেশীরভাগ কবির কবিতায় প্রান্তিকায়িত এই জীবনের বোধ,যাপনচিত্র, বন-বনানী, প্রকৃতি, নদী, বিল, হাওর, সম্পর্কের সৌন্দর্য, বিষন্নতা এবং গভীরতার সাথে ছুঁয়ে আছে কিছুটা আধ্যাত্মচেতনাও। কবিতাগুলো ভালোলাগার রেশ দিলেও মনে হলো কোথাও কী আর একটু কিছু দেবার ছিল কবির? একটু অসম্পূর্ণতা কী রয়ে গেলো? দরকার যা ছিল তা হলো- সৃজন হাতে অক্ষর-ফসলকে  আর একটু গুছিয়ে তোলা। আর সেজন্য জরুরী পরিবর্তিত সময়ের  দিকে চোখ রাখা, শব্দ-অক্ষরে  আরও কিছুটা নিমগ্ন থাকা। লিখতে লিখতে চর্চার মাধ্যমে এই কবিরাই একদিন চমৎকার সব কবিতা লিখবেন এ আমার বিশ্বাস কেন না সময় তাদের অভিজ্ঞ করে তুলবে লেখাকর্মী হিসাবে।

আরও যারা কবিতা লিখেছেন এই সংকলনে- মমতা চক্রবর্তী, স্বাতীলেখা রায়, আদিমা মজুমদার, যোগেন্দ্র চন্দ্র দাস এবং শৈলেন দাস। এখানেও নানা অনুভূতি নিয়ে লেখা কবিতায় মা ও বাবা এসে দাঁড়িয়েছেন, দাঁড়িয়েছে আমাদের অন্তর্গত আমি, ২০২৫শে মৃত্যু এসে যে সঙ্গীত শিল্পীকে মিথ বানিয়ে গেলো, বলা যায় অমরত্ব দিয়ে গেলো সেই শিল্পী জুবিন গর্গও এখানে স্মৃতির ছায়ায়, এসেছে আমাদের শনবিলের জলকথা এবং আরও কতকিছু। কবিতার সাথে পাঠকের কখন বন্ধুত্ব হয়ে যায়, ভেতরটা জলতরঙ্গের মতো বেজে ওঠে পাঠক নিজেও জানেন না। তাই কবিতা চিরকাল লৌকিক, অলৌকিকে যেন এক হলুদ আলোমাখা রহস্যময় বিষন্ন বাড়ি, যার প্রবেশ পথ আমাদের সকলের জানা হয়ে ওঠে না।


সংকলনের প্রচ্ছদ দৃষ্টিনন্দন। সম্পাদকীয়তে  কবি-সম্পাদকের মনের কথাটির হদিস পাই আমরা তাই সংকলনটি  পড়তে আগ্রহ জন্মে। কাঁটা সদৃশ্য কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল বানান যেমন সব পত্র-পত্রিকাতে থাকে এখানেও আছে কিছু। অবশ্য অভ্যস্থ পাঠক সেসব জানেন।

সবচেয়ে আমার কাছে ভালোলাগার বিষয় হচ্ছে উৎসর্গ পাতাটি। সেখানে উজ্জ্বল হয়ে আছে কবি ছবি গুপ্তার নাম। সেজন্য সম্পাদক শৈলেন দাসকে আমি ধন্যবাদ জানাই। 

আগামীতে আমরা প্রতাপের কাছ থেকে আরও অনেক ভালো লেখাপত্র পাবো সেই আশা রাখলাম। মূল্য- ১২০ টাকা। আগ্রহী পাঠক সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতাপ অনলাইন থেকে মুদ্রিত সংস্করণ প্রথম খণ্ড পাঠকপ্রিয়তা লাভ করুক এই শুভেচ্ছা রইল। 

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রতাপ : অনলাইন-৪২

ভেতরের আগুন, বাইরের ধোঁয়া: এক অব্যক্ত যন্ত্রণা”—এই চিত্রকর্মটি মানুষের অন্তর্লোকের এক নীরব বিস্ফোরণ।

চিত্রে অবয়বটি স্থির, কিন্তু তার ভেতরে অদৃশ্য আগুন জ্বলছে। সেই আগুনের তাপ বাইরে আগুন হয়ে নয়, ধোঁয়া হয়ে বেরোচ্ছে—ঘন, কালচে, আচ্ছন্ন। ধোঁয়া মুখ ও শরীরের একাংশ ঢেকে রেখেছে, যেন অনুভূতিগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠতে চায় না, কিংবা বলা যায় না। চোখে ক্লান্তি, ঠোঁটে নীরবতা—সব মিলিয়ে এক অব্যক্ত আর্তনাদ।

নীল রঙের পোশাক শান্তির প্রতীক হলেও তা সম্পূর্ণ প্রশান্ত নয়; বরং চাপা কষ্টকে ঢেকে রাখার এক প্রচেষ্টা। বুকের ওপর রাখা হাতটি আত্মরক্ষার ভঙ্গি—নিজেকে সামলে রাখা, ভেঙে না পড়ার চেষ্টা। অবয়বের নিচের প্রতিবিম্ব যেন জানিয়ে দেয়, যন্ত্রণা শুধু উপরের স্তরে নয়, গভীরতাতেও তার ছায়া ফেলে।

এই চিত্রকর্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয়— সব আগুন জ্বলে না, সব কষ্ট চিৎকার করে না। কিছু যন্ত্রণা ধোঁয়া হয়ে নীরবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। - জ্যোতি বসু দে


যাত্রাপথের এক জীবনকথা

। শৈলেন দাস ।

    প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার—চাতলা হাওরের সন্ন্যাসী টিলায় জন্ম নেওয়া এক নিরলস যাত্রাশিল্পীর নাম। পিতা পরেশ চন্দ্র সরকার। পড়াশোনার হাতেখড়ি রাজপুর হাইস্কুলে, পরবর্তী সময়ে রাধামাধব কলেজে শিক্ষা লাভ। কিন্তু তাঁর জীবনের মূল পাঠশালা ছিল যাত্রামঞ্চ—আলো, সংলাপ আর মানুষের আবেগে ভরা সেই জগৎ।


                 সঙ্গম সময়

               । সন্দীপ সাহু ।

রূপনারানে নিশিপদ্মর পাপড়ি খুলে এলে

আকাশ থেকে তারা খসে মাটি হয়

মাটি, মাতৃদুগ্ধ চাঁদ-ঘ্রাণে সারদা বিগ্রহ 

বিগ্রহে গঙ্গা মাথা ছোঁয়ালে রামপ্রসাদ গেয়ে ওঠেন



      না বলা কিছু ভাবনা ও কথা

                  । মাম্পী দাস।

একদিন আমিও জমিয়ে রেখেছিলাম

অজস্র কথা ও কতো কতো সাজানো ভাবনা।

শীতের শুষ্কতায় খসে পড়া মোটা হলদে পাতার মতো

ঝরে পড়েছে সাজানো সকল ভাবনা, কতো না বলা কথা, 



               অদৃশ্য ঠিকানা

                । মাধুরী দাস ।

জন্মের ঘরটাকে বলে — বাবার বাড়ি,
ভালোবাসা থাকলেও সেখানে নাকি
তাদের অধিকার অর্ধেকেরও কম।

বিয়ের পরে আরেক ঠিকানা পায়,
যাকে সবাই বলে — শ্বশুরবাড়ি,


কবরস্থানের রহস্য

।  প্রতীক চক্রবর্তী ।

গৌরবপুর থেকে কিছু দূরে অবস্থিত ছিল একটি বড় কবরস্থান। এটি প্রায় দুশো বছর পুরোনো। না জানি কী যে রহস্য লুকিয়ে আছে সেই কবরস্থানে, যা আজও লোকেদের প্রাণ নিয়ে খেলা করে। কবরস্থানটির জমির আকৃতি ছিল বর্গাকৃতির। আশেপাশে ছিল বড় বড় তালগাছ। রাস্তাটিও ছিল আঁকাবাঁকা। আশেপাশে কোনো ঘরবাড়ি নেই, শুধু ছিল গাছগাছালির মধ্যে দু-চারটি বাঁশ-বেতের ঘর।    পুরো গল্পটি পড়ুন

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রতাপ : অনলাইন-৪১

    এই ছবিটি নূতন আশা ও নূতন বছরের এক চমৎকার প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ। ছবিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি অন্ধকার পথ বা সুড়ঙ্গের শেষে একটি উজ্জ্বল আলোর বৃত্ত। এটি আমাদের জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়: অন্ধকারের শেষে আলোর দিশা

    ছবিটিতে কালো ও ধূসর রঙের আধিপত্য মূলত ফেলে আসা বছরের কষ্ট, হতাশা বা প্রতিকূলতাকে বোঝায়। কিন্তু পথের শেষে যে জ্বলজ্বলে বৃত্তটি দেখা যাচ্ছে, সেটি হলো নূতন বছর। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, রাত যত গভীরই হোক না কেন, সূর্যোদয় অনিবার্য। - জ্যোতি বসু দে।


বৃষ্টি নামুক 

। জয়শ্রী ভট্টাচার্য ।

সম্পর্কের সব যোগাযোগ 
ছিন্ন হয়ে গেলে,
আমি ঝরাপাতা দের সাথে কথা বলি,
সূর্যাস্তের শেষ রশ্মিটুকুর সাথে
নিজেকে একাত্ম করে নিই।

উজ্জ্বল নক্ষত্র

। রাখী দাস ।

মিটমিট করা তারাগুলোর মনের কথা—
কেউ কি কখনো বোঝে?
যখন একটি তারা ভেঙে পড়ে যায়,
তখন কে-ই বা তাহাকে খোঁজে?
পুরো কবিতা পড়ুন


শীতের সকাল

। তানিয়া দাস ।

কুয়াশায় চাদর টেনে
ঘুম ভেঙে মাঠের আলপথে,
শিশিরে ভেজা ঘাসে
পা ডুবালে শরীর কাঁপে।
পুরো কবিতা পড়ুন


              নিজের প্রেমে মগ্ন

                 । আকাশ দাস ।

একলা পথে চলতে এখন বড্ড ভালোবাসি,

নিজের মাঝেই খুঁজে পাই সব সুখ আর হাসি।

প্রয়োজন নেই মিথ্যে মায়ার, নেই কোনো পিছুটান,

নিজেকে নিয়ে বাঁচার মাঝেই খুঁজে পাই সম্মান।

পুরো কবিতা পড়ুন

                      স্বপ্ন উড়ান

       । শাশ্বতী পুরকায়স্থ (চৌধুরী) ।

একটা অবসেশনের মধ্যে ঘেমে উঠেছিল মেঘবালিকার—
বুক-চিরা দাউ দাউ ঝলসানো স্বপ্ন ও কথারা।

হাজার মাইলফলকের হিসেব, প্রশ্নচিহ্নের পাহাড় ছুঁয়েছে;
ভাবনার বাইরে ছিল সামান্য ওই সেকেন্ডরা।
পুরো কবিতা পড়ুন

মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

প্রতাপ : অনলাইন-৪০

অনস্তিত্বের খেলাঘর

। দীপান্বিতা ভট্টাচার্য ।

প্রতিটি মেঘের ভেলায় লিখেছি—

গোপনে তোমার নাম,

অবজ্ঞার আঁচলে জড়িয়ে রেখেছি—

দিয়েছি চড়া দাম।

পুরো কবিতা পড়ুন


আমার জীবন

। বিপুল দাস ।

কি পেলাম এই জীবনে—

কিছু বন্ধু,

কিছু স্বপ্ন,

আর অসংখ্য না-পাওয়া আশা।

পুরো কবিতা পড়ুন


আমাদের প্রিয় কবি শৈলেন দাস স্যার

                  । সুজিতা দাস ।

শব্দ দিয়ে লেখেন আপনি জীবনের প্রতিচ্ছবি,

কালের ক্যানভাসে আঁকেন নিত্যনতুন ছবি।

আপনার কলমে ফোটে ফুল, ঝরে অশ্রুধারা,

অনুভূতির গভীরে আপনি চিরন্তন পথহারা।


মৃত্যুর উৎসব

। সপ্তমিতা নাথ ।

শেষ বললেই সব শেষ হয় না,
মৃত্যু বললেই সব শেষ হয় না।
মৃত্যুও হতে পারে এক শোভাযাত্রা—
সাগরের মতো বিশাল এক জীবনের উদযাপন।
মৃত্যু হতেও তো পারে শব্দের শেষে
এক বিরামহীন উৎসব।


অব্যক্ত প্রেম 

। সুরজ কুমার নাথ ।

অনেক কথা আছে 

যেগুলো ছন্নছাড়া কবিতা হয়ে

আমার পুরোনো ডায়েরির ভাজে ভাজে থেকে

নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন থেকে মুদ্রিত সংস্করণ; প্রথম খণ্ড

সম্পাদকের কথা ....

    ডিজিটাল যুগে সাহিত্য, ভাবনা ও মতপ্রকাশের পরিসর নতুন করে সাজানো হয়েছে। অনলাইনের দ্রুততা, সহজলভ্যতা ও বহুমাত্রিক পাঠকসমাজ-এসবের ভরসায় প্রতাপ এর অনলাইন সংস্করণ দিনের পর দিন সমৃদ্ধ হয়েছে। পাঠকদের প্রতিক্রিয়া, লেখকদের নিরলস সৃজনশীলতা এবং সমসাময়িক বিষয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এই প্ল্যাটফর্ম ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে এক অনন্য সাহিত্যভুবন।
    আজ আমরা অনলাইন থেকে নির্বাচিত কিছু লেখা নিয়ে এই যে মুদ্রিত সংস্করণ; প্রথম খণ্ড প্রকাশের পথে, তা নিছক একটি বই নয় এটি অনলাইন সৃজনযাত্রার প্রথম মাইলফলক। একদিকে প্রযুক্তির স্পর্শে বদলে যাওয়া পাঠাভ্যাস, অন্যদিকে কাগজের পৃষ্ঠায় ছাপা লেখার প্রতি মানুষের চিরন্তন ভালোবাসা এই দুই জগতের সেতুবন্ধন ঘটিয়েছে এই মুদ্রিত সংকলন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নির্বাচিত কিছু লেখাকে নতুন বিন্যাসে, নতুন পাঠ-অভিজ্ঞতায় পাঠকের হাতে তুলে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
    আমরা বিশ্বাস করি, মুদ্রণে রূপান্তর কেবলই মাধ্যম বদল নয়; এটি লেখার প্রতি শ্রদ্ধা, লেখকদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি এবং পাঠকের পাঠ-আনন্দকে আরও টেকসই করার প্রচেষ্টা। অনলাইন সাহিত্য প্রায়শই ক্ষণস্থায়ী বলে মনে করা হয়, কিন্তু এই সংকলন প্রমাণ করে-সৃজনশীলতার মূল্য কখনো হারায় না; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি আরও স্থায়ী হয়ে ওঠে।
    এই প্রথম খণ্ড প্রকাশের মধ্য দিয়ে আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি-আগামী দিনেও প্রতাপ তার সৃজনমাধ্যমের বৈচিত্র্য ধরে রাখবে, নতুন লেখকদের আবিষ্কার করবে, পাঠকের সঙ্গে আরও গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলবে। অনলাইনের সম্ভাবনা আর মুদ্রণের মর্যাদা-এই দুইয়ের মিলনে প্রতাপ এগিয়ে যাবে আরও সৃজনশীল ভবিষ্যতের দিকে।
    সকল লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সমর্থনেই এই যাত্রা সম্ভব হয়েছে। সবাইকে ধন্যবাদ।

- শৈলেন দাস

সূ চী প ত্র


আদিমা মজুমদার : কবিতা,  জুবিনের গান



সুস্মিতা দাস চৌধুরী : মা,  গাছ

স্বাতীলেখা রায় : নিজেকে,  কত কবিতা


ডা কাত্যায়নী দত্ত চৌধুরী : টুকরো বনের গল্প

যোগেন্দ্র চন্দ্র দাস : বিশ্বপ্রেম,  শূণ্য



মমতা চক্রবর্তী : সেই কিশোরী,  মা, তোমাকে বলছি


অপর্ণা কুমার : মেঘলা আকাশ,  স্বার্থপর


আব্দুল হালিম বড়ভূইয়া : নিয়তি,  আলাদ্দীনের প্রদীপ


আকাশ ধর : প্রশ্ন

রিপন দাস : হিসাবের গরমিল


প্রমিলা দাস : আশা,  ঘুড়ি উৎসব

শিপ্রা দাশ : আশা,  অদ্ভুত হাসি



সীমা ঘোষ : ভয়

প্রিয়তোষ শর্মা : চাতক পাখি

পল্লব দে : মহাশূন্য

সুরজ কুমার নাথ : জুবিন দা

শৈলেন দাস : এই সময়টা আমার নয়,  ভয়

শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

প্রতাপ : অনলাইন-৩৯

         নিজের প্রতিধ্বনি 

            । চয়ন ঘোষ ।

একেকটা রাত যেন ভাঙা কাচের মতো,

ধরে রাখলে হাত কেটে যায়,

আর ছেড়ে দিলে রক্ত থেমে যায়।

আমি এখন বুঝেছি —

                                                                         পুরো কবিতাটি পড়ুন


অদ্ভুত হাসি

। শিপ্রা দাশ ।

ছোটখাটো একটা চাকরি করে সুপ্রিয়া, একাই থাকে। সারাদিন অফিসের কাজ সেরে বাড়ি ফিরে ক্লান্ত সুপ্রিয়া ঘরের টুকিটাকি কাজ সেরে কিছু একটা খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। ততক্ষণে বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে প্রায়। বিছানা যেন সুপ্রিয়াকে ছাড়ছেই না…


                   অবুঝ প্রেম

                 । সদয় দাস ।

বাতাসে ভেসে বেড়ায় প্রেম প্রেম গন্ধ, 

ভাবনাতে শিহরিত - আছে যত রন্ধ্র।

নয়নে আঁকা তোমার প্রেমময় ছবিটা, 

শব্দের মালা গেঁথে লিখি আমি কবিতা।

                                                                            পুরো কবিতাটি পড়ুন


                  নিয়তি 

    । আব্দুল হালিম বড়ভূইয়া ।

 মাধ্যমিক এর গণ্ডি পেরোনো দুই সুহৃদ 

উচ্চাভিলাসী মোহে তাদের জীবনতরী 

কায়মনোবাক্যে যাদের রং রং ভাব

একদা শিক্ষানুষ্ঠানের সৌজন্যে 



         অস্তিত্বের সন্ধানে

            । পিংকী দাস ।

যেখানে অনুতাপ ঝরে নিঃশব্দ দহন হয়ে, 

ছাই করে দেয় স্বপ্নের ধ্বনিমালা। 

চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসে পৃথিবী, 

আমি তাকাই, অথচ কিছুই স্পষ্ট হয় না–

                                                                         পুরো কবিতাটি পড়ুন

শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫

প্রতাপ : অনলাইন-৩৮

             নিঃশব্দতা

 
           । পিংকী দাস ।
 
নিঃশব্দতার ভেতরেও গল্প লেখা হয়
শব্দহীন এক অনুভবে জেগে থাকে ক্ষত। 
সেঁজুতির আলসে সন্ধ্যাতারা আনাড়ি হাতে
স্মৃতি হাওড়ায় বুড়ো ছাতিমের হিম গন্ধে। 
পুরো কবিতা পড়ুন



   মাতোমাকে বলছি
    । মমতা চক্রবর্তী ।
মা---------
শুনছো
আজ তোমার কথা খুব মনে পড়ছে...
জানো মা----
রাজার হট্টহাসি,কোটালের চোখ রাঙানো
বড়ো অসহায় করে তোলে
                                                                        পুরো কবিতা পড়ুন


তোমার গল্পের শিরোনাম

   । সোনালী গোস্বামী ।

কোনো একদিন বসে নিরালায়..
কেদারায় চড়ে চায়ের চুমুকে,
কতো অজানা গল্পের হারিয়ে যাওয়া দেশে..
খুঁজে পেতাম নিজেকে তোমার সেই গল্পের আমিতে।
পুরো কবিতা পড়ুন
               

ঘুড়ি উৎসব
 
 । প্রমিলা দাস ।
 
ঘুড়িঘুড়ি মন,

ফাগুনের পবনে ডাকে সারাক্ষণ।

হারানো ছেলেবেলা

পুনঃ শনবিলে দিল দেখা।

পুরো কবিতা পড়ুন


           জুবিনের গান 
 
      । আদিমা মজুমদার ।
 
মৃত্যু যে এত সুন্দর হতে পারেজানতাম না।
জুবিনতুমি দেখিয়ে দিয়েছো
জীবিত জুবিন থেকে মৃত জুবিন কত শক্তিশালী, কত মহান।
জুবিন তোমার মৃত্যু আমাদের জোট বাঁধতে শেখায়শেখায় প্রতিবাদের ভাষা,
বিনা অস্ত্রে যুদ্ধ করতে মাঠে নামায়বর্বরতা নিষ্ঠুরতা তোমাকে কাঁদায়। 
পুরো কবিতা পড়ুন

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫

প্রতাপ : অনলাইন-৩৭

গল্পের পিরামিড

। শাশ্বতী পুরকায়স্থ (চৌধুরী) ।

 মনের ক্যাম্পাসের করিডরে আত্মহত্যা করছে, এক রং তুলির ফেস্টুন। ফুলকারীরা তখন আবছায়ার মাঝে- অসংযত মেঘেদের লুকোচুরি খেলায় '-চাঁদ'একা,কিছু ক্ষতবিক্ষত চুরমার ইচ্ছেরা ইমারত গড়ে নির্দ্বিধায় অথচ,মুহূর্তের কারচুপি গুলু ফাঁকতালে পরে থাকে।  পুরো গদ্য কবিতাটি পড়ুন


আশা 

। শিপ্রা দাশ ।

    এক অতি সাধারণ গরিব পরিবারের মেয়ে আশা। আরও পাঁচ পাঁচটা মেয়ের মতনই অনেক স্বপ্ন ছিল আশার জীবনে। সেই স্বপ্ন পূরণ হবার আগেই,গরিব বাবা পাঠশালার গণ্ডি পেরুতে না পেরুতেই বিয়ে দিয়ে দেন। সেও বাধ্য হয়ে সেই বিয়েকে মেনে নেয়। আশা স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতেই শ্বশুর বাড়িতে প্রবেশ করে। স্বামী নিতান্তই ছোটখাটো কাজ করেই সংসারের হাল টানে। রোজকার অভাব অনটনের মধ্য দিয়েই চলতো তাদের সংসার।  পুরো গল্পটি পড়ুন


ফিরে দেখা ২০২৫ 

। মীনাক্ষী নাথ ।

বছরটি নয় শুধু ৩৬৫ দিনের সমষ্টি 
বিশেষ অভিজ্ঞতার যেন এক প্রতিকৃতি। 
এপ্রিলে পাহালগাম হত্যাকাণ্ড হয় যদি ক্রিয়া, 
মে তে অপারেশন সিন্দুর তারই প্রতিক্রিয়া।।

স্মার‌্যকথা

। মঙ্গলা দত্ত রিমি ।

কথা রা হারিয়ে যায় কথাদের ভীড়ে,
চেনা কন্ঠস্বরে বৃষ্টিস্নাত হয় প্রকৃতি অমানিশার ঘোরে।
নীরবতার নিঠুর সুরে উচ্ছাস উঠে শান্ত সরিৎ এর বুক জুড়ে,
চেনা মুখগুলো আজ বড্ড অচেনা কুহকিনী নীড়ে।
পুরো কবিতাটি পড়ুন


টুকরো বনের গল্প

। ড. কাত্যায়নী দত্ত চৌধুরী ।

    জেন জি ও জেন আলফার সাথে আমাদের মিলিনিয়েলাদের বিস্তর ফারাক। কিন্তু ছেলেমেয়েদের টিচার গাইড হওয়ার সুবাদে এই ব্যবধান তো অতিক্রম করতেই হয়, দূরত্ব বেশি হলে মনের ঠিক কাছাকাছি পৌঁছনো যায় না। এইতো কিছুদিন আগের কথা, তখনো এই দফার পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যায়গুলো পড়ানো হয় নি। একজন জেন জি বললেন, " ম্যাডাম তুমি কান্তারা (সিনেমা) দেখেছো? কী অ্যানিমেশন দিয়েছে দেখার মতো!" আমার আগ্রহ হলো, জানতে চাইলাম, " এই সো কলড্ অ্যানিমেশন ছাড়া আর কী দেখলি?"  পুরো প্রবন্ধটি পড়ুন


রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫

প্রতাপ : অনলাইন-৩৬

   তোমাতেই থাকতে চাই

           । সুমন দাস ।

তোমার চোখের ভেতর আমি

একটা ছোট্ট ঘর বানাতে চাই,

যেখানে সকাল হবে তোমার পলকে,

রাত হবে শুধু তোমার নিঃশ্বাসে।

পুরো কবিতাটি পড়ুন


পাখি এবং দক্ষিণ কাছাড়ের বাম অঞ্চলের পল্লীজীবন

। দেবতোষ নাথ ।

        বৈচিত্র্যেভরা এই পৃথিবীতে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সৃষ্টির পর মুহূর্ত থেকেই এই প্রক্রিয়া চালু হয়ে গেছে। পৃথিবীতে মানবরূপী জীবের আবির্ভাবের পর এই প্রক্রিয়া আরো দ্রুততর হতে থাকলো। আর বিংশ শতকের মধ্যভাগ থেকেই পৃথিবী যেন সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে যেতে থাকলো মানুষের মানসিকতা, চিন্তা ভাবনা। নগরায়নের দ্রুত অগ্রগতিতে ধ্বংস হতে থাকলো প্রকৃতি, উদাও হয়ে যেতে থাকলো পল্লীর শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশ। বিজ্ঞানের এই জয় জয়কারে একদিকে যেমন আজ গোটা পৃথিবী মানুষের হাতের মুঠোয় এসে গেলো, মানুষ সুখ-সুবিধে উপভোগের চূড়ান্ত পর্যায়ে যেমন পৌঁছে গেল, তেমনি প্রকৃতি ধ্বংস হওয়ার ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হলো, মানুষ ক্রমে যন্ত্রমানব হয়ে ওঠতে থাকলো। মনের আবেগ-উচ্ছ্বাস, প্রেম-ভালোবাসা হারিয়ে গেলো ঐশ্বর্যের বাহ্য আড়ম্বরের মধ্যে।  পুরো প্রবন্ধটি পড়ুন


ভালোবাসা ও মানুষের অস্তিত্ব

। প্রতীমরাজ ভট্টাচার্য ।

মানুষ জন্ম নেয় একা, কিন্তু বাঁচে ভালোবাসার ভেতর দিয়ে। পৃথিবীর ইতিহাস যত পুরোনো, ভালোবাসার গল্পও ততটাই চিরন্তন। সভ্যতার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ তার হৃদয়ের ভাষায়, তার স্পর্শে, তার চোখের নীরবতায় ভালোবাসার অর্থ খুঁজে এসেছে। কেউ তা খুঁজেছে দেবতার মধ্যে, কেউ প্রকৃতির, কেউ মানুষের মুখে।  পুরো লেখাটি পড়ুন


        রাজা ভীমের প্রতি

          । শৈলেন দাস ।

হে রাজন,

দ্বিতীয় রামপাল এবং তার মিত্রদের

অসম আক্রমণের বিরুদ্ধে

তোমার অসীম পরাক্রম এবং বীরত্ব

কৈবর্ত যোদ্ধাদের যেভাবে

উদ্বুদ্ধ এবং উত্তেজিত করেছিল

তাতে তোমার আত্মবিশ্বাস কি এতটাই

দৃঢ় এবং প্রগাঢ় হয়েছিল যে -

পুরো কবিতাটি পড়ুন


                  বধূবরণ

           । আকাশ ধর ।

আজি রাজপ্রাসাদে বাজলো সানাই,

জয়ডঙ্কা কাশি।

মন্দিরা মৃদঙ্গ খোল,

বাজলো রাশি রাশি।।

পুরো কবিতাটি পড়ুন

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় পোষ্ট

আকর্ষণীয় পোষ্ট

প্রান্তিক জীবন যেখানে রোদ্দুর লিখতে চায়

। চন্দ্রিমা দত্ত । অনলাইন থেকে মুদ্রিত সংস্করণ 'প্রতাপ' প্রথম খণ্ড যেদিন সম্পাদক কবি শৈলেন দাস আমার হাতে এনে দিল খুব আনন্দ হচ্ছিল আম...