বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
প্রতাপ : ১৫তম মুদ্রিত সংখ্যা
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
প্রতাপ : অনলাইন-৪৭
পরদেশী
। বিপ্লব উরাং ।
বাপদাদা চৌদ্দপুরুষ এইখিনে
এই মাটি-এ।
এখন হামরা নকি পরদেশী!
কাগজ দেখাতে হবেক
সাবধান
। মানসী সিনহা ।
আমার সাংবিধানিক অধিকারকে
যদি আমি আমার বলি
তাতে তোমার ক্ষতি কি....
পুরো কবিতাটি পড়ুন। প্রদীপ চন্দ্র দাস ।
অভয় একটি প্রত্যন্ত গ্রাম বিজয়নগরে বাস করত। ছোটবেলা থেকেই সে অত্যন্ত মেধাবী ছিল। সে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে। পড়াশোনাতে অত্যন্ত ভালো থাকায় শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দের খুবই প্রিয়পাত্র ছিল। সে ছিল খুবই তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন। সকলেই তার বুদ্ধির প্রশংসা করত। পুরো গল্পটি পড়ুন
। পিয়ালী ঘোষ ।
তুমিহীন বৃষ্টি যখন স্পর্শ করে আমায়,
হৃদয় জেগে ওঠে যেন অবাঞ্ছিত সব আশা।
রাস্তার মোড়ের চায়ের কাপের ওঠা ধোঁয়া প্রশ্ন করে,
অপেক্ষার অবসান কবে?
। বিষ্ণুপদ দাস ।
যৌথ বাড়ির বৈঠকখানায়
পুরাতন এক ছবি,
এঁকেছিলেন পূর্বপুরুষ
অঙ্কন ছিলো হবি।
শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬
প্রতাপ : অনলাইন-৪৬
। শমিতা ভট্টাচার্য ।
এই সংসার একখানা মঞ্চ
এখানে নিত্য নাটকের আয়োজন
আজ যাঁরা অভিনেতা, অভিনেত্রী
কাল তারাই আবার দর্শক হয়ে
নাটকের মজা লুটেন
। চান্দ্রেয়ী দেব ।
শহর জুড়ে বৃষ্টি নামলো,
তনুদ্বয়ে বারিকণার পরশ নেই।
দুজনে দাঁড়িয়ে আছি স্বপ্নের বালুচরে,
স্নিগ্ধতার অবকাশে অপলক চাহনির রেখাপাত।
ভালোবাসা যেন সেই মুহূর্তের নীরব সঙ্গী।
। মৃদুলা ভট্টাচার্য ।
নিঝুম নীরবতায় শুনি নিঃশব্দ হাহাকার,
চারপাশ ভরা মানুষ তবু নেই কোনো নিজস্বতা
ভালোবাসা আড়াল করে লুকিয়ে থাকে ভাঙা স্বপ্ন
যতটুকু নিজের ভাবি, ততটাই দূরে সরে থাকে মূহুর্ত।
। ধ্রুবজ্যোতি মজুমদার ।
আমি এপার ওপার কারো নই
পৃথিবীটাই তোর
উৎস আমার রহস্যময়
কুয়াশা ঘেরা ভোর।
। শৈলেন দাস ।
তুমি দীর্ঘশ্বাস ফেলো না,
বড়াইলের বুক থেকে ঘন কুয়াশা
উড়ে যাবে দূরে।
যে বীজ বোনা হয়েছে সোনালি স্বপ্নের,
তাদের আর বেড়ে ওঠা হবে না।
শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
প্রতাপ : অনলাইন-৪৫
। রূপালী দাস ।
আস্ত একটি গাছ কেটে করে নিল কাঠি,
এটা কী হচ্ছে, আরে বুঝতে রয়েছে বাকি?
হাজার হাজার অট্টালিকা গড়ে উঠছে নিমেষে—
এটাই হচ্ছে সত্য এখন, চমকে ওঠার কী আছে!
। শেখর মালাকার ।
নদীমাতৃক বাংলার ভোর মানেই কুয়াশা ভেজা ধানক্ষেত, দূরে তালগাছের মাথায় সূর্যের প্রথম আলো, আর মসজিদের আজান কিংবা মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে মিশে থাকা এক মধুর সুর—বাংলা ভাষার সুর। এই ভাষাতেই মা তার সন্তানকে প্রথম আদর করে ডাকে, এই ভাষাতেই কবি স্বপ্ন দেখে, কৃষক গান গায়, আর বিপ্লবী শপথ নেয়। পুরো লেখাটি পড়ুন
। মাম্পী দাস ।
তোমায় খুঁজি আমি গল্পের মাঝে।
তোমায় দেখি আমি কবিতার সাজে।
কে বলেছে হৃদয়কে তোমায় এত ভালোবাসতে?
তোমায় খুঁজি আমার সকল সুখ-দুঃখের মাঝে।
। অপর্ণা কুমার ।
আমাদের বাড়ির উত্তর দিকে একটি বিশাল পুরোনো বটগাছ ছিল। গাছটা এত বড় ছিল যে দিনের বেলাতেও তার নিচে আলো কম পৌঁছাত। তার মোটা কাণ্ড, ঝুলন্ত শেকড় আর ঘন ডালপালা দেখে মনে হতো যেন কোনো প্রাচীন প্রহরী পাহারা দিচ্ছে। গ্রামের লোকেরা বলত, বটগাছটার নিচে নাকি অদ্ভুত ছায়া নড়ে, গাছের সামনে গেলে নাকি কারও ফিসফিস শব্দ শোনা যায়। তাই রাতে রাস্তা পার হতে অনেকেই ভয় পেত। পুরো গল্পটি পড়ুন
। ঝুমুর পান্ডে ।
(১)
পাগলিটা আজও বাজারটা ঝাঁট দিচ্ছে। ধুলোয় সাদা হয়ে যাচ্ছে চারদিক। এত ধুলো! হায় রে! সবজি-ওয়ালা কানাই আলু, বেগুন, লঙ্কা নিয়ে বসেছে। এখন চেঁচিয়ে উঠল—
“ভরাইলার! আবার ভরাইলার! সব ভরাইলার!”
সত্যিই ও বেগুন-লঙ্কা ধুয়ে ঝকঝক করে বসেছিল, এখন সব প্রায় সাদা হয়ে গেল। ওদিকে ইরফানের সব পুঁইশাকও নোংরা হয়ে গেল! নোংরা হয়ে গেল যত কলাও… পুরো গল্পটি পড়ুন
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রতাপ : অনলাইন-৪৪
। সুচরিতা দাস ।
যখন সে জন্মেছিল,
পাড়া জুড়ে বাবা নাকি তার মিষ্টি বিলিয়েছিল—
বলেছিল, ‘ঘরে আমার মা লক্ষ্মী এলো’।
সেই কন্যেই যখন আজ কন্যের মা হলো—
‘পুত্রবতী ভবো’ বলা কত লোকের মুখে হাসি উড়ে গেল! পুরো কবিতা পড়ুন
। সুরজ কুমার নাথ ।
জিভটা যে কত বোঝে
টক, ঝাল, মিষ্টি,
কাঁচকলা কাঁচা খেলে
হয় নাকি পুষ্টি। পুরো কবিতা পড়ুন
| সুরঞ্জীৎ নমঃশূদ্র |
ভোরের আলোতে জেগে ওঠে ছাত্রাবাসের ছাত্ররা,
প্রাতঃকালে প্রার্থনা করে, ঠাকুরের সম্মুখেতে বসে।
ঠাকুরের নাম মুখে আনে,
শান্তি মন্ত্র ও গীতার শ্লোকের দ্বারা ।।
। বিশ্বরাজ ভট্টাচার্য ।
ফের সেই সুর। রাগ ভৈরব।
ভাঙা ভাঙা কিন্তু মিষ্টি গলা! বয়সের ছাপ আছে বটে। পাশের বাড়ি থেকেই সুরটা আসে। গলাটা ভীষণ চেনা চেনা, কিন্তু কার যে গলা, তা ভাল করে ঠাহর করতে পারছেন না মিহিরবাবু।
এই বাড়িতে মিহিরবাবু ভাড়া এসেছেন সপ্তাহখানেক হলো। আসার পর দিনই শুনেছিলেন মহিলা কণ্ঠটি । 'জাগো মোহন পেয়ারে'। শুধু এই এক লাইন। এর চেয়ে বেশি আর কোনও পংক্তি গান না মহিলা। কিন্তু যত টুকুই গান, তা-ই অপূর্ব। মন কেমন করা। আরও শোনার সাধ জাগে। পুরো গল্পটি পড়ুন
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রতাপ : অনলাইন-৪৩
ভালবাসা মানে দূরত্বের মাঝেও স্পর্শ করা।
রঙের মিশ্রণ বলে দেয়—
ভালবাসা কখনো শুধু সুখ নয়,
তার মধ্যে থাকে কষ্ট, অভিমান, আশা ও ক্ষমা।
ফাল্গুন
। চন্দ্রিমা দত্ত ।
ঝরাপাতার পথে পদশব্দ উঠলে
বুঝি- পরিচিত পদধ্বনি-
উদাস বাতাসে
কুহু ডেকে ওঠে যদি
তোমার উপস্থিতি
। টিংকুরঞ্জন দাস ।
তুমি কাছে আসলেই
ফিরে যাই যৌবনের সেই টুকরো সময়ের কাছে
যারা আমাকে রক্তাক্ত করতে চেয়ে
নিজেরাই চলে গেছে অজ্ঞাতবাসে।
এক অজানা প্রেম
। সুরঞ্জীৎ নমঃশূদ্র ।
জানি না কবে, কোথায় দেখেছি তোমায়,
তোমায় দেখার পর নিজেকে জেনেছি নতুনভাবে।
তোমার রূপে মুগ্ধ হয়েছি আমি,
তোমার চোখে ডুবেছি আমি।।
অচেনা অনুভূতি
। পুষ্পিতা দাস ।
ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে বাসস্ট্যান্ডের দিকে হেঁটে চলেছে তিতাস আর তন্ময় সাড়ে তিনটের বাস ধরবে বলে। আজ ওদের সঙ্গে আর কেউ নেই। ক্যাম্পাস ইন্টারভিউর পরই তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে আসছিল তিতাস। আজ তাঁর অন্য কোনো দিকে নজর নেই। নিজের দিকেও না। আজ সে নিজের মধ্যেই নেই যে। বাকি দিনগুলিতে সে নিজে ডেকে ডেকে সবাইকে নিয়ে তবেই বাস ধরতে যায়। কিন্তু আজ তাকে এভাবে বেরিয়ে আসতে দেখে তন্ময় ও তার সঙ্গে চলে আসলো। সে বুঝতে পারছিল তিতাসের কিচ্ছু একটা হয়েছে। পুরো গল্প পড়ুন
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রান্তিক জীবন যেখানে রোদ্দুর লিখতে চায়
অনলাইন থেকে মুদ্রিত সংস্করণ 'প্রতাপ' প্রথম খণ্ড যেদিন সম্পাদক কবি শৈলেন দাস আমার হাতে এনে দিল খুব আনন্দ হচ্ছিল আমার কারণ 'প্রতাপ'-এর জন্মলগ্ন থেকেই আমি এই ছোট পত্রিকাটিকে জানি এবং স্নেহ করি। স্নেহ করি সেই শৈলেনকে যে অল্প বয়স থেকে সাহিত্যকে ভালোবেসে লেখার জগতে আসে এবং একটি ছোট পত্রিকা করার স্বপ্ন দেখেছিল। সেইসাথে স্বপ্ন দেখেছিল একটি সুন্দর, সমঅধিকারে গড়ে ওঠা সুষ্ঠু সমাজের যেখানে মানুষ মানুষকে সম্মান করে। সেই স্বপ্ন দেখার কারণ- তার সেই প্রথম যৌবনের দিনগুলো দেখেছিল প্রান্তিকায়িত মানুষের নানা বঞ্চনা এবং অসাম্য। দেখেছিল উচ্চশ্রেনীর মানুষের আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের প্রতি নিম্ন মানসিকতা। ক্রমে শৈলেন বড় হলো, তার ছোট পত্রিকা- 'প্রতাপ' জন্ম নিলো এবং পরবর্তী পর্যায়ে পরিচিতি গড়ে উঠতে থাকে নতুন আশা-আকাঙ্ক্ষায়। শৈলেনও শিক্ষকতার পেশার সাথে জড়িত হলে জীবন নানাভাবে বিস্তার লাভ করে। চিন্তা-চেতনার শেকড়ও গভীরে প্রোথিত হয়। শৈলেন আজ সামাজিক কাজকর্মে সক্রিয় মানুষ আর সেখানে তাকে সাহায্য করছে তার ছোট পত্রিকা 'প্রতাপ' যা আজ সাহিত্যের এক উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মও বটে নতুন লেখাকর্মীদের কাছে।
এই মুদ্রিত সংস্করণে সম্পাদক শৈলেন দাস লিখেছেন- " আজ আমরা অনলাইন থেকে নির্বাচিত কিছু লেখা নিয়ে এই যে মুদ্রিত সংস্করণ প্রথম খণ্ড প্রকাশের পথে, তা নিছক একটি বই নয়- এটি অনলাইন সৃজনযাত্রার প্রথম মাইল ফলক। একদিকে প্রযুক্তির স্পর্শে বদলে যাওয়া পাঠাভ্যাস, অন্যদিকে কাগজের পৃষ্ঠায় ছাপা লেখার প্রতি মানুষের চিরন্তন ভালোবাসা ... " আসলে যতই অনলাইন লেখাপত্র আমরা পড়ি না কেন ছাপার অক্ষরের প্রতি লেখক, পাঠক সকলেরই এক নিবিড় আগ্রহ এবং ভালোবাসা রয়েছে। তাই এই সংকলনের সিদ্ধান্ত শৈলেনের অবশ্যই এক শুভ উদ্যোগ বলবো
এবার লেখাগুলো একটু ছুঁয়ে দেখা যাক। গল্প, মুক্ত-গদ্য, এবং ভ্রমণ সবই খুব সংক্ষিপ্তভাবে লেখা কারণ বড় লেখার সুযোগ এখানে নেই কিন্তু বিন্দুতেই সিন্ধু দর্শন হয় যদি লেখার মুনশিয়ানা থাকে। আমিও ব্যক্তিগত সময়ের অভাবে সংক্ষিপ্ত ভাবেই অনুভবটুকু লিখছি।
সুজিতা দাসের গল্প- 'একটি কালো মেয়ের গল্প', যেখানে গল্প এগিয়েছে একটি পরিবারের কন্যা যার গায়ের রং কালো তাকে ঘিরে। আর এই কালো রংয়ের জন্যই মেয়েটিকে নানা অবহেলা করা হয় পরিবারে, যেখানে পড়াশুনো করতেও বাঁধা দেন মা। তাঁদের কথা- গায়ের রং যেহেতু কালো লেখাপড়া করে কী হবে? বরং সংসারের যাবতীয় শিখুক, ভবিষ্যতে কাজে আসবে। সমস্ত লাঞ্ছনা, অবহেলা, অবজ্ঞা অতিক্রম করে মেয়েটির মেধা ও বিশ্বাসই এক পরম আলো হয়ে ওঠে। এই পজিটিভ ভাবনা গল্পটির মূল সুর। পড়ে ভালো লেগেছে তবে লেখক গল্প লেখার ক্ষেত্রে আরও খুঁটিনাটি বিষয় ভেবে দেখে আরও একটু যত্নশীল হলে অন্যমাত্রা যোগ হতো গল্পটিতে।
'টুকরো বনের গল্প'- কাত্যায়ণী দত্ত চৌধুরী এই সুন্দর গদ্য লেখাটির মধ্য দিয়ে আমাদের এক উত্তম অভিজ্ঞতা শোনালেন যা বড়ই মনোগ্রাহী। প্রকৃতি মানুষের এক ও অদ্বিতীয় বন্ধু। বন্ধু হিসাবে, মা হিসাবে তাকে যত্ন করলেই মানুষের সার্বিক মঙ্গল। এই কথা বার বার সব মনীষীরাই উচ্চারণ করে গেছেন। আমরা এখানেও আবার শুনলাম। লেখার শিরোনামটি খুব সুন্দর।
'বিশ্বপ্রেম' নিয়ে যোগেন্দ্র চন্দ্র দাস সংক্ষিপ্ত কিন্তু সুন্দর একটি লেখা দিয়েছেন যেখানে স্বার্থহীন উদার মানবিক সম্পর্কের কথা বলেছেন যা আজ এই অস্থির সময়ের দাবী।
রাহুল দাসের 'একটি পবিত্র তীর্থস্থান নুনকুলি' পড়ে যতটুকু জানলাম তা আমার আগে জানা হয়নি। এই লেখাটি পড়ে অনেক পাঠকরাও জানবেন এবং ভ্রমণে আগ্রহী হবেন আমার বিশ্বাস। প্রকৃতির অনেক রহস্য মিথ হয়ে ধর্ম বিশ্বাসে রূপান্তরিত হয়ে মানুষকে সুন্দরে বেঁচে থাকার রসদ জোগায় বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকাতে। প্রান্তিক জনজীবনকে আমাদের মানে অতি আধুনিকদের আর দেখা হয় কোথায়!! আমরা নিজেদের নিয়েই অতিব্যস্ত। পাঠক হিসাবে তাই নুনকুলি নিয়ে আগ্রহ জন্মে।
শিপ্রা দাশের দু'টি গল্প- 'আশা' এবং 'অদ্ভুত হাসি'- প্রথমটি যন্ত্রণার, দ্বিতীয় গল্প কিছুটা রহস্য ঘেরা। ভালোই লেগেছে পড়ে তবে আমার মনে হয়েছে- গল্প দু'টো আর একটু টানটান হতো যদি লেখক কিছু শব্দের ব্যবহারে ঘটনায় একটু চমক আনতেন। আগামীতে নিশ্চয়ই আমরা শিপ্রা দাশের নিটোল গল্প পড়ব।
'মা, যে কথাগুলো তোমায় বলা হয়নি' - পুষ্পিতা দাসের এই আবেগঘন লেখা নিয়ে কিছু বলা মানে বেমানান হবে কারণ এখানে - এই লেখায় জড়িয়ে আছেন - মা নামে এক অনন্ত আলো; আর আছে সন্তানের বেদনা। মাতৃত্ব এক অতুলনীয় ব্যপার। মা সেখানে বটবৃক্ষ হয়ে সন্তানকে জড়িয়ে থাকেন। অল্প বয়সে আমরা অনেক সময় সেই স্নেহের মহিমা বুঝি না তাই ম্যাচিওরিটি এলে বড় আপশোষ হয় এই ভেবে যে- আমাদের কর্তব্য পালনে কত ত্রুটি রয়ে গেলো!!
সীমা ঘোষ 'ভয়' গল্পের ছোটপরিসরেই সাধারণ মানুষের জীবনযুদ্ধ ও সমাজের অব্যবস্থার বিষয়টি সেইসাথে অসম লড়াইয়ে হেরে যাবার ভয়কে তপতীর মধ্য দিয়ে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই ভয়ের কাছে সত্যিই অসহায় আর্থিকভাবে ক্ষমতাহীন মানুষরা।
কবিতা যারা লিখেছেন- রুমা দাস, সুচরিতা দাস, মঙ্গলা দত্ত রিমি, সুস্মিতা দাস চৌধুরী, রঞ্জন কুমার বনিক, পিংকী দাস, অপর্ণা কুমার, গোপেন দাস, আব্দুল হালিম বড়ভূইয়া, সদয় দাস, আকাশ ধর, রিপন দাস, মীনাক্ষী নাথ, প্রমীলা দাস, চয়ন ঘোষ, প্রিয়তোষ শর্মা, পল্লব দে, সুরজ কুমার নাথ ... বেশীরভাগ কবির কবিতায় প্রান্তিকায়িত এই জীবনের বোধ,যাপনচিত্র, বন-বনানী, প্রকৃতি, নদী, বিল, হাওর, সম্পর্কের সৌন্দর্য, বিষন্নতা এবং গভীরতার সাথে ছুঁয়ে আছে কিছুটা আধ্যাত্মচেতনাও। কবিতাগুলো ভালোলাগার রেশ দিলেও মনে হলো কোথাও কী আর একটু কিছু দেবার ছিল কবির? একটু অসম্পূর্ণতা কী রয়ে গেলো? দরকার যা ছিল তা হলো- সৃজন হাতে অক্ষর-ফসলকে আর একটু গুছিয়ে তোলা। আর সেজন্য জরুরী পরিবর্তিত সময়ের দিকে চোখ রাখা, শব্দ-অক্ষরে আরও কিছুটা নিমগ্ন থাকা। লিখতে লিখতে চর্চার মাধ্যমে এই কবিরাই একদিন চমৎকার সব কবিতা লিখবেন এ আমার বিশ্বাস কেন না সময় তাদের অভিজ্ঞ করে তুলবে লেখাকর্মী হিসাবে।
আরও যারা কবিতা লিখেছেন এই সংকলনে- মমতা চক্রবর্তী, স্বাতীলেখা রায়, আদিমা মজুমদার, যোগেন্দ্র চন্দ্র দাস এবং শৈলেন দাস। এখানেও নানা অনুভূতি নিয়ে লেখা কবিতায় মা ও বাবা এসে দাঁড়িয়েছেন, দাঁড়িয়েছে আমাদের অন্তর্গত আমি, ২০২৫শে মৃত্যু এসে যে সঙ্গীত শিল্পীকে মিথ বানিয়ে গেলো, বলা যায় অমরত্ব দিয়ে গেলো সেই শিল্পী জুবিন গর্গও এখানে স্মৃতির ছায়ায়, এসেছে আমাদের শনবিলের জলকথা এবং আরও কতকিছু। কবিতার সাথে পাঠকের কখন বন্ধুত্ব হয়ে যায়, ভেতরটা জলতরঙ্গের মতো বেজে ওঠে পাঠক নিজেও জানেন না। তাই কবিতা চিরকাল লৌকিক, অলৌকিকে যেন এক হলুদ আলোমাখা রহস্যময় বিষন্ন বাড়ি, যার প্রবেশ পথ আমাদের সকলের জানা হয়ে ওঠে না।
সবচেয়ে আমার কাছে ভালোলাগার বিষয় হচ্ছে উৎসর্গ পাতাটি। সেখানে উজ্জ্বল হয়ে আছে কবি ছবি গুপ্তার নাম। সেজন্য সম্পাদক শৈলেন দাসকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
আগামীতে আমরা প্রতাপের কাছ থেকে আরও অনেক ভালো লেখাপত্র পাবো সেই আশা রাখলাম। মূল্য- ১২০ টাকা। আগ্রহী পাঠক সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতাপ অনলাইন থেকে মুদ্রিত সংস্করণ প্রথম খণ্ড পাঠকপ্রিয়তা লাভ করুক এই শুভেচ্ছা রইল।
বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রতাপ : অনলাইন-৪২
চিত্রে অবয়বটি স্থির, কিন্তু তার ভেতরে অদৃশ্য আগুন জ্বলছে। সেই আগুনের তাপ বাইরে আগুন হয়ে নয়, ধোঁয়া হয়ে বেরোচ্ছে—ঘন, কালচে, আচ্ছন্ন। ধোঁয়া মুখ ও শরীরের একাংশ ঢেকে রেখেছে, যেন অনুভূতিগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠতে চায় না, কিংবা বলা যায় না। চোখে ক্লান্তি, ঠোঁটে নীরবতা—সব মিলিয়ে এক অব্যক্ত আর্তনাদ।
নীল রঙের পোশাক শান্তির প্রতীক হলেও তা সম্পূর্ণ প্রশান্ত নয়; বরং চাপা কষ্টকে ঢেকে রাখার এক প্রচেষ্টা। বুকের ওপর রাখা হাতটি আত্মরক্ষার ভঙ্গি—নিজেকে সামলে রাখা, ভেঙে না পড়ার চেষ্টা। অবয়বের নিচের প্রতিবিম্ব যেন জানিয়ে দেয়, যন্ত্রণা শুধু উপরের স্তরে নয়, গভীরতাতেও তার ছায়া ফেলে।
এই চিত্রকর্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয়— সব আগুন জ্বলে না, সব কষ্ট চিৎকার করে না। কিছু যন্ত্রণা ধোঁয়া হয়ে নীরবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। - জ্যোতি বসু দে
সঙ্গম সময়
। সন্দীপ সাহু ।
রূপনারানে নিশিপদ্মর পাপড়ি খুলে এলে
আকাশ থেকে তারা খসে মাটি হয়
মাটি, মাতৃদুগ্ধ চাঁদ-ঘ্রাণে সারদা বিগ্রহ
বিগ্রহে গঙ্গা মাথা ছোঁয়ালে রামপ্রসাদ গেয়ে ওঠেন
না বলা কিছু ভাবনা ও কথা
। মাম্পী দাস।
একদিন আমিও জমিয়ে রেখেছিলাম
অজস্র কথা ও কতো কতো সাজানো ভাবনা।
শীতের শুষ্কতায় খসে পড়া মোটা হলদে পাতার মতো
ঝরে পড়েছে সাজানো সকল ভাবনা, কতো না বলা কথা,
কবরস্থানের রহস্য
। প্রতীক চক্রবর্তী ।
গৌরবপুর থেকে কিছু দূরে অবস্থিত ছিল একটি বড় কবরস্থান। এটি প্রায় দুশো বছর পুরোনো। না জানি কী যে রহস্য লুকিয়ে আছে সেই কবরস্থানে, যা আজও লোকেদের প্রাণ নিয়ে খেলা করে। কবরস্থানটির জমির আকৃতি ছিল বর্গাকৃতির। আশেপাশে ছিল বড় বড় তালগাছ। রাস্তাটিও ছিল আঁকাবাঁকা। আশেপাশে কোনো ঘরবাড়ি নেই, শুধু ছিল গাছগাছালির মধ্যে দু-চারটি বাঁশ-বেতের ঘর। পুরো গল্পটি পড়ুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রতাপ : অনলাইন-৪১
এই ছবিটি নূতন আশা ও নূতন বছরের এক চমৎকার প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ। ছবিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি অন্ধকার পথ বা সুড়ঙ্গের শেষে একটি উজ্জ্বল আলোর বৃত্ত। এটি আমাদের জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়: অন্ধকারের শেষে আলোর দিশা
ছবিটিতে কালো ও ধূসর রঙের আধিপত্য মূলত ফেলে আসা বছরের কষ্ট, হতাশা বা প্রতিকূলতাকে বোঝায়। কিন্তু পথের শেষে যে জ্বলজ্বলে বৃত্তটি দেখা যাচ্ছে, সেটি হলো নূতন বছর। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, রাত যত গভীরই হোক না কেন, সূর্যোদয় অনিবার্য। - জ্যোতি বসু দে।
বৃষ্টি নামুক
সম্পর্কের সব যোগাযোগ
নিজের প্রেমে মগ্ন
। আকাশ দাস ।
একলা পথে চলতে এখন বড্ড ভালোবাসি,
নিজের মাঝেই খুঁজে পাই সব সুখ আর হাসি।
প্রয়োজন নেই মিথ্যে মায়ার, নেই কোনো পিছুটান,
নিজেকে নিয়ে বাঁচার মাঝেই খুঁজে পাই সম্মান।
পুরো কবিতা পড়ুনমঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
প্রতাপ : অনলাইন-৪০
। বিপুল দাস ।
কি পেলাম এই জীবনে—
কিছু বন্ধু,
কিছু স্বপ্ন,
আর অসংখ্য না-পাওয়া আশা।
। দীপান্বিতা ভট্টাচার্য ।
প্রতিটি মেঘের ভেলায় লিখেছি—
গোপনে তোমার নাম,
অবজ্ঞার আঁচলে জড়িয়ে রেখেছি—
দিয়েছি চড়া দাম।
পুরো কবিতা পড়ুন। সুজিতা দাস ।
শব্দ দিয়ে লেখেন আপনি জীবনের প্রতিচ্ছবি,
কালের ক্যানভাসে আঁকেন নিত্যনতুন ছবি।
আপনার কলমে ফোটে ফুল, ঝরে অশ্রুধারা,
অনুভূতির গভীরে আপনি চিরন্তন পথহারা।
এই সপ্তাহের জনপ্রিয় পোষ্ট
-
পরদেশী । বিপ্লব উরাং । বাপদাদা চৌদ্দপুরুষ এইখিনে এই মাটি-এ। এখন হামরা নকি পরদেশী! কাগজ দেখাতে হবেক পুরো কবিতাটি পড়ুন ...
-
আজব দুনিয়া । রূপালী দাস । আস্ত একটি গাছ কেটে করে নিল কাঠি, এটা কী হচ্ছে, আরে বুঝতে রয়েছে বাকি?...
-
শৈলেন দাস । ভয় । কিছু সুন্দর মুহূর্ত যেমন আর্থিক স্বচ্ছলতার কারণে সাহিত্য চর্চা বা অন্যকোন সেবামূলক কাজে নিজেকে জড়িত রাখা আমার আত্মতৃপ্ত...
-
রুপময়ী চাতলার গ্রামের সৌন্দর্য । সুজিতা দাস । সবার কাছেই তাদের গ্রাম খুব সুন্দর ও আকর্ষণীয় একটি জায়গা । তেমনি আমাদের কাছে আমাদের ...
-
তোমাতেই থাকতে চাই । সুমন দাস । তোমার চোখের ভেতর আমি একটা ছোট্ট ঘর বানাতে চাই, যেখানে সকাল হবে তোমার পলকে, রাত হবে শুধু তোমার ন...
আকর্ষণীয় পোষ্ট
প্রান্তিক জীবন যেখানে রোদ্দুর লিখতে চায়
। চন্দ্রিমা দত্ত । অনলাইন থেকে মুদ্রিত সংস্করণ 'প্রতাপ' প্রথম খণ্ড যেদিন সম্পাদক কবি শৈলেন দাস আমার হাতে এনে দিল খুব আনন্দ হচ্ছিল আম...

















































