পুরোনো বটগাছের রহস্য

প্রতাপ : অনলাইন-৪৫

। অপর্ণা কুমার ।

আমাদের বাড়ির উত্তর দিকে একটি বিশাল পুরোনো বটগাছ ছিল। গাছটা এত বড় ছিল যে দিনের বেলাতেও তার নিচে আলো কম পৌঁছাত। তার মোটা কাণ্ড, ঝুলন্ত শেকড় আর ঘন ডালপালা দেখে মনে হতো যেন কোনো প্রাচীন প্রহরী পাহারা দিচ্ছে। গ্রামের লোকেরা বলত, বটগাছটার নিচে নাকি অদ্ভুত ছায়া নড়ে, গাছের সামনে গেলে নাকি কারও ফিসফিস শব্দ শোনা যায়। তাই রাতে রাস্তা পার হতে অনেকেই ভয় পেত।

ছোটবেলা থেকেই এসব গল্প শুনে আমিও অনেক ভয় পেতাম। কিন্তু একদিন মনে হলো—এভাবে ভয় পেয়ে থাকলে তো রহস্য কোনোদিনই জানা যাবে না। সত্যিই কি সেখানে কিছু আছে? রহস্যটা নিজেই দেখব। একটু সাহস করে একা বেরিয়ে পড়লাম। সেদিন ছিল অমাবস্যার রাত। ধীরে ধীরে বটগাছের দিকে এগোতেই বুক ধড়ফড় করতে লাগল। চারদিকে নিস্তব্ধতা, দূরে কেবল ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক।

কিন্তু আমি একটু সামনে গিয়ে দেখলাম, গাছের কোটরে কয়েকটি পেঁচা বসে আছে। আর ফিসফিস শব্দ? সেটা ছিল বাতাসে পাতার ঘর্ষণ। আর অদ্ভুত ছায়া বলে আসলে কিছুই না—চাঁদের আলো আর ছায়ার খেলাই আমাদের চোখকে ভুল বুঝিয়েছিল।

আমি কিছুক্ষণ গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে রইলাম। কোনো অলৌকিক কিছু ঘটল না। তখন বুঝলাম, রহস্য ছিল না গাছের মধ্যে—ছিল আমাদের ভয়ের কল্পনায়। তারপর থেকে বটগাছটি আর ভয়ের নয়, বরং সাহসের গল্প হয়ে রইল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় পোষ্ট

আকর্ষণীয় পোষ্ট

প্রান্তিক জীবন যেখানে রোদ্দুর লিখতে চায়

। চন্দ্রিমা দত্ত । অনলাইন থেকে মুদ্রিত সংস্করণ 'প্রতাপ' প্রথম খণ্ড যেদিন সম্পাদক কবি শৈলেন দাস আমার হাতে এনে দিল খুব আনন্দ হচ্ছিল আম...