নববর্ষ ও মায়ের তৈরি জামা

। ছন্দা দাম ।

সে সময় রেডিমেড জামাকাপড়ের তেমন রেওয়াজ ছিল না। নতুন বছর শুরু হওয়ার বেশ কিছুদিন আগে বাবা নিয়ে আসতেন সুতির থানের ফুল, লতা-পাতা ছাপানো কাপড়। আর মা সারাদিনের সাংসারিক কাজের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে নিজের হাতে কাঁচি দিয়ে কেটে, সুঁই-সুতোয় বানিয়ে তুলতেন আমরা বোনেদের জন্য দারুণ আকর্ষণীয় জামা।

একটা বাড়িতে অনেকটা পরিবার একসাথে থাকতাম। সব ঘরের ছেলেমেয়েরা যখন উঠোনে জমা হতাম, তখন আমার মুখে থাকত মায়ের হাতে তৈরি জামাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসার কত কথা। অন্যান্যদের মায়েদের সেই শিল্প জানা ছিল না। তাই বাজারে কেনা কাপড়েই পালিত হতো ওদের শুভ নববর্ষ। আমি গর্ব বোধ করতাম—মা নিজের হাতে জামা বানিয়ে দিতেন। নববর্ষের দিন সকালবেলা, যখন বোনেরা স্নান করে মায়ের তৈরি জামা পরে উঠোনে নেমে আসতাম, আমাদের বুক যেন গর্বে চওড়া হয়ে উঠত।

ঘরে ছিল না সেলাই মেশিন। হাতের তৈরি এক একটা জামা যে কতটা পরিশ্রমের ফসল, তা হয়তো সে সময় বুঝতাম না। আজ বুঝতে পারি মায়ের এই ভালোবাসার কথা। সুতোয় বোনা কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে মায়ের এই ভালোবাসা আজকালকের দিনে দুষ্প্রাপ্য। আজ অনলাইনেই মিলে যায় একের পর এক ডিজাইনার ফ্রক। তাই আজকালকার ছেলেমেয়েরা এর মর্যাদা কতটা, তা অনুভব করতে পারবে না।

সন্ধ্যাবেলা বাবার হাত ধরে দোকানে দোকানে হালখাতা পূজোর মিষ্টি নিতে যেতাম। গায়ে মায়ের বানানো ফুল-তোলা জামা। আমরা ভাবতেই পারতাম না, মায়ের হাতের বানানো জামা ছাড়া নববর্ষের উদযাপন সম্ভব

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় পোষ্ট

আকর্ষণীয় পোষ্ট

প্রান্তিক জীবন যেখানে রোদ্দুর লিখতে চায়

। চন্দ্রিমা দত্ত । অনলাইন থেকে মুদ্রিত সংস্করণ 'প্রতাপ' প্রথম খণ্ড যেদিন সম্পাদক কবি শৈলেন দাস আমার হাতে এনে দিল খুব আনন্দ হচ্ছিল আম...