। প্রতীক চক্রবর্তী ।
কিরন দেখতে বেশ মিষ্টি চেহারার ছেলে। কিন্তু তার স্বভাবটা ভালো ছিল না। সে অলস ছিল। সহজে অনেক টাকা কামাতে চাইতো। তাই সে এক অদ্ভুত উপায় বের করল। সে প্রতিদিন নতুন নতুন রাস্তাঘাটে যেত। মানুষের সামনে গিয়ে কাঁদতে বসত। সে বলত, "আমার মা মারা গেছেন, বাবাও নেই। আমি একদম একা।" তার অভিনয় এত নিখুঁত ছিল যে মানুষের মায়া হতো। তারা তাকে অনেক টাকা সাহায্য করত। সবুজ সেই টাকা দিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিত। দামি জিনিস কিনত। মিথ্যা কথা বলে টাকা কামানো তার রোজকার নেশা হয়ে দাঁড়াল।
তার মা-বাবা ছিলেন খুব সৎ ও সরল মানুষ। তাঁরা কিরনকে অনেক বোঝাতেন। কিন্তু কিরন তাঁদের কথা হাসিমুখে উড়িয়ে দিত। সে ভাবত, কষ্ট না করে যদি এত টাকা পাওয়া যায়, তবে ক্ষতি কী!
একদিন কিরন পাশের শহরের এক বড় বাজারে গেল। সেখানেও সে একই মিথ্যা কথা বলতে শুরু করল। সে বলল, "আজ সকালেই আমার মা-বাবা দুজনেই একসাথে মারা গেছেন। দয়া করে আমাকে কিছু টাকা দিন।" মানুষ বিশ্বাস করে তাকে অনেক টাকা দিল। কিরন পকেটভর্তি টাকা নিয়ে খুব খুশি মনে বাড়ি ফিরছিল।
কিন্তু বাড়ির মোড়ে পৌঁছাতেই সে দেখল এক বিশাল ভিড়। পাড়ার লোকজন ফিসফিস করছে। কিরনের বুকটা কেঁপে উঠল। সে দৌড়ে ঘরের ভেতর গেল। গিয়ে দেখল, তার মা আর বাবা খাটের ওপর শান্ত হয়ে শুয়ে আছেন। কিছু সময় আগে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁরা দুজনেই একসাথে মারা গেছেন।
কিরন তখন স্তব্ধ হয়ে গেল। তার পকেটে তখন মিথ্যা বলে আনা হাজার হাজার টাকা। কিন্তু আজ তার কান্নাটা আর অভিনয় ছিল না। সে চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। কিন্তু আজ তার সেই কান্না শোনার বা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কেউ আর বেঁচে ছিল না। প্রকৃতি তার মিথ্যার এক নির্মম হিসাব চুকিয়ে দিল।
নীতিশিক্ষা: মিথ্যার ওপর গড়ে ওঠা সুখ কখনো স্থায়ী হয় না। মুখে উচ্চারিত অন্যায় বাক্য বা মিথ্যা অনেক সময় নিজের অজান্তেই নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হতে পারে। তাই সর্বদা সত্যের পথে চলা উচিত।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন