স্মৃতি যখন হাসায়

প্রতাপ : অনলাইন-৫২

। পুষ্পিতা দাস ।

পুরজিৎ চেম্বার থেকে ফিরে একদিন আরাধ্যাকে বলল, "জানো, আজ আমার চেম্বারে এক মিউজিক ডিরেক্টর এসেছিলেন। ট্রিটমেন্ট নেওয়ার পর তাঁর কাজের ব্যাপারে আমাকে বলছিলেন। বললেন, বলিউডেও নাকি কাজ করেছেন। আমি তো সঙ্গে সঙ্গেই তোমার কথা বললাম। বললাম, আমার স্ত্রীর গলা ভীষণ সুন্দর, ভীষণ আলাদা। আপনি তাঁকে একবার গাইয়ে দেখতে পারেন। জানো, লোকটা আমার কথায় খুব একটা পাত্তাই দিল না।"

আরাধ্যা হা করে কথাগুলো শুনছিল। শুধু ভাবছিল, সত্যিই পুরজিৎ এমনটা বলেছে লোকটাকে!

আরাধ্যা কোনোদিন গান শেখেনি। তবে গান তাঁর প্রাণ। সারা দিনই গান করতে থাকে, ওই গুনগুন করেই আর কী, তা সে ঘরে হোক বা কর্মক্ষেত্রে কোনো হালকা কাজ করতে করতেই হোক। কিন্তু পুরজিৎ যে তাঁর গান এতটা লক্ষ্য করেছে, সেটা তো সে কখনও টের পায়নি! আর তাই বলে কোনো মিউজিক ডিরেক্টরকে এভাবে তাঁর কথা বলে বসবে, তা বিশ্বাস করা যায়? তাই কথাগুলো শুনে আরাধ্যা কোনো রিয়েকশনই দিতে পারেনি, এতটা অবাক হয়েছিল সে।

আরাধ্যার বাবাও গান শুনতে খুব ভালোবাসতেন। আর তাই তাঁদের বাড়িতে এলেও তিনি টিভি চ্যানেলগুলোর গানের মর্নিং লাইভ প্রোগ্রামগুলো মিস করতেন না। আর সে কী কমপ্লেইন পুরজিতের! বাবাকে বলেই ফেলল, "তুমি কেন এই বেসুরো গানগুলো শোনো, বলতে পারো? তোমার মেয়েকে বলবে গান করে শোনাবে। ভীষণ সুরেলা। এত পারফেকশন তাঁর গানে।"

এই কথাগুলো শুনে আরাধ্যা আর তাঁর বাবা কী বলবেন, ঠিক বুঝতে পারেননি। আরাধ্যার বাবারও আরাধ্যার গান খুব পছন্দ হতো, তাই বলে... অথচ শুধু শুধু প্রশংসা করে কাউকে খুশি করার মানুষ তো পুরজিৎ নয়। হয়তো তাঁরা ভেবেছিলেন, এত কঠিন দেখতে মানুষটির মধ্যে এত সরল একটা মন লুকিয়ে রয়েছে।

আজ কথাগুলো শুধুই স্মৃতি। পুরজিৎ আর আরাধ্যার গানের প্রশংসা করে না। কিন্তু আরাধ্যা আজও গান করে, সুরে হোক বা বেসুরে। কখনো কেউ বললে গেয়েও শোনায়। কখনো সোশ্যাল মিডিয়ায়ও তাঁর গান শোনা যায়। তাঁর মন রাখতে হয়তো অনেকে তাঁর গানের তারিফও করে। স্টেজ শোর জন্যও কেউ কেউ বলে। কিন্তু তাঁর তো আসলে গানটা ভালো করে শেখাই হলো না। সে তো গায় শুধু নিজেকে ভালো রাখতে, আর বলাই বাহুল্য, প্রতিটি গানই পুরজিতের প্রতি তাঁর একটি নিঃশব্দ ট্রিবিউট।

আজ আরাধ্যার ইচ্ছে হলো কিছু একটা লিখতে। অজানা কারণে কলমে তাঁর এই কথাগুলোই ফুটে উঠল। জীবনের কতশত সাধারণ কথাগুলোর মধ্যে কোনো একটি কথা কেমন যেন অসাধারণ হয়ে জ্বলজ্বল করে মনের মণিকোঠায়। কখনো হাসায়, কখনো বা কাঁদায়। আরাধ্যা আজ হাসছে আর ভাবছে, তাঁর মতো গায়িকার এত বড় প্রশংসক এ জীবনে অন্তত আর একটিও জুটবে না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় পোষ্ট

আকর্ষণীয় পোষ্ট

“প্রতাপ” কেবল একটি সাহিত্যপত্রিকা নয়, বরং একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রয়াস

। মেঘমালা দে মহন্ত । প্রতাপ’-এর উনিশতম মুদ্রিত সংখ্যা শুধু একটি সাহিত্যপত্রিকার নতুন প্রকাশ নয়, বরং বরাকের সাহিত্য-সংস্কৃতি, ভাষাচেতনা এবং স...