শনবিলের গহীন কথা

প্রতাপ : অনলাইন-৫৬

                   । দিলীপ কুমার দাস ।

এশিয়ার বুকে দ্বিতীয় বিস্তৃত শনবিলের জলরাশি,

ভোরের আলোয় জেগে উঠে প্রকৃতির মধুর হাসি।

উপার্জনের তাগিদে নৌকা নিয়ে জেলে যায়,

মাছ ধরার মধ্যেই যে তারা জীবনের আনন্দ পায়।

মাছ ধরে করে তারা সংসার প্রতিপালন, 

বছরের পর বছর যেন এই উপার্জনই চির নিরন্তর।

বছরের অর্ধ ভাগ কাটায় তারা মাছ ধরে,

বাকি অর্ধ ভাগ কাটায় ফসলের চিন্তা করে।

সবুজ ধানের ক্ষেতে বয়ে বেড়ায় মৃদু হওয়ার গান,

কৃষকের ঘামে ভিজে উঠে সোনার ফসলের প্রাণ।

এই বিলের তীরে ছোট ছোট কুঁড়েঘর সারি সারি,

সাধারণ মানুষের জীবন যেন প্রকৃতিরই বাড়ি।

পূর্বপুরুষের মধ্যে ছিল না খুব শিক্ষার আলো,

কর্ম আর খেলাধুলার আনন্দ নিয়েই ছিল জীবন ভালো।

উন্নতির আশা নিয়েই কাটিয়েছে দিনের পর দিন,

প্রকৃতির কোলেই খুঁজে পেয়েছে জীবনের সব সুখের দিন।

শিক্ষার আলো জ্বালিয়েছে নতুন দিগন্তের পথ।

কেউ হয়েছে শিক্ষক, পুলিশ, ডাক্তার আর উকিল-মোক্তার,

বর্তমানে শনবিলে শুরু হয়েছে সরকারি চাকরির জয়জয়কার।

আজকের দিনে বদলেছে কিছু দৃশ্যপট,

স্বপ্ন ভরে উঠেছে তরুণ প্রজন্মের মনে, 

সদা চাকরির চিন্তা-চর্চায় মগ্ন একে অন্যের সনে।

তবু দারিদ্র্যের ছায়া রয়েছে অনেক ঘরে,

অনেক পরিবার ঘুরপাক খাচ্ছে জীবনের ঘূর্ণিঝড়ে।

কেউবা আবার হয়েছে ধনী, বিপুল অর্থের ভাণ্ডার,

তবুও জন্মমাটির টানে সবার রয়েছে গ্রামের প্রতি অধিকার।

শনবিল শুধু সৌন্দর্যের নীরব এক ছবি নয়,

মানুষের সংগ্রাম আর স্বপ্নের মিলনময়।

নগেন্দ্রনগর গ্রামের জল, মাটি আর মানুষের ভালোবাসার বন্ধন,

এই বিলের তীরেই গড়ে উঠেছে আমার জীবনের প্রথম স্পন্দন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় পোষ্ট

আকর্ষণীয় পোষ্ট

প্রতাপ এর কথা

।। মঞ্জরী হীরামণি রায় ।। শৈলেন দাস বরাক উপত্যকার সাহিত্য চর্চায় এক পরিচিত নাম। শৈলেনের কবিতা আমি প্রথম ওঁর কন্ঠেই পাঠ শুনেছিলাম শনবিলে একটি...