। নবনীতা দে ।
আমাদের নর্থইস্ট, আমাদের আসাম। সৃষ্টি হয়েছে অপূর্ব প্রাকৃতিক মাধুর্যে। রয়েছে নানাবিধ গাছপালা এবং নানা প্রজাতির জীবজন্তু। ঘুরে বেড়ায় নানা ধরনের পতঙ্গ এবং নানা রকম পাখি। তাদের নিয়ে তৈরি হয়ে আছে আমাদের মতো ভ্রমণপ্রিয় মানুষের ঘুরে বেড়ানোর মতো অসংখ্য স্থান। যেখানে প্রকৃতি যেন আঁচল বিছিয়ে আছেন আমাদেরকে আমন্ত্রণের উদ্দেশ্যে। এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঝর্ণার কলকল শব্দ ও পাখিদের কোলাহলে যেন প্রকৃতি এক বিস্ময়কর উজ্জ্বল শোভা। ঠিক এমনই একটি স্থান হলো গড়চুক এ পামহি। আসামের শিলং রোডে খানাপাড়ার কাছাকাছি। বিখ্যাত দীপর বিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য পার্বত্য এলাকায় নীলাচল পাহাড়ের কাছে ডাকিনী পাহাড়ে, স্থানীয় ভাষায় ডাইনি পাহাড়ে অবস্থিত আর এক জ্যোতির্লিঙ্গ ভীমাশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ বা ভিমেশ্বর ধাম জ্যোতির্লিঙ্গ। শিব পুরাণে যার সম্বন্ধে অনেক কিছু তথ্য দেওয়া আছে। ঝর্ণা যেখানে অনবরত মহাদেবকে স্নান করিয়ে দিচ্ছেন ও তৃপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করছেন। পাখিরা যেখানে আপন মনে নিজস্ব ছন্দে সুর সৃষ্টি করছে। ঠিক সেখানেই আজ অনেক ভক্তদের ভিড়। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ভক্তরা এসে মহাদেবকে পূজো দিচ্ছেন।
পুরাণে উল্লিখিত মতে, ভারতবর্ষে প্রায় ৬৪টি জ্যোতির্লিঙ্গ আছে, তার মধ্যে ১২টি অন্যতম। সকল জ্যোতির্লিঙ্গগুলির মধ্যে এটিও একটি পবিত্র শিবস্থান। শিবপুরাণের রুদ্রসংহিতা অনুযায়ী, এখানেই ভগবান শিব তাঁর ভক্তদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ভীমাসুরকে বধ করতে অবতার রূপ ধারণ করেছিলেন। যেখানে শ্রাবণ মাসে এবং শিবরাত্রিতে অসংখ্য ভক্তদের সমাগম ঘটে। যেখানে প্রবেশদ্বারে রয়েছেন নন্দী মহারাজ, যিনি সর্বদা মহাদেবকে দর্শনের উদ্দেশ্যে ভক্তদের পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন। ভক্তরা প্রবেশদ্বারে ঝর্ণার জলে পবিত্র হয়ে ভগবানকে দর্শন করতে পারেন। মহাদেব যেখানে প্রকৃতির কোলে ঝর্ণার জলে শিলার অভ্যন্তরে ধ্যানে মগ্ন।
প্রসঙ্গ মতে বলা যায়, এখানে কোনো কংক্রিটের নির্মিত মহাদেবের মন্দির নেই। শুধুমাত্র ঝর্ণার জলে অবস্থিত শিলাতেই ভীমাশঙ্করের বাস। একজন পূজারি সর্বদা উপস্থিত থাকেন এবং ভক্তদেরকে সাহায্য করেন মহাদেবের পূজো দিতে। চারদিকে খুবই মনোরম দৃশ্য। মনের অস্থিরতা যেখানে দূর হয়। যেখানে মন শান্ত হয়। কথিত আছে, অনেকবার মন্দির নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু যে কোনো কারণেই হোক হয়ে ওঠেনি। ভগবানের ইচ্ছা, উনি এভাবেই পূজিত হবেন। এই স্থানে রয়েছে আরও অনেক শিবলিঙ্গ, ত্রিশূল এবং অন্যান্য পবিত্র শিলাপ্রস্তর।
পামোহিতে এই শিবস্থানে পৌঁছানোর পূর্বে আমরা দেখতে পাবো গণেশ মন্দির। যেখানে প্রণাম করে তারপর মহাদেব দর্শন। এই গণেশ মন্দিরে গণেশ বাবাজিও একজন বিশাল সুন্দর শিলাপ্রস্তর। যিনি নাকি মহাদেবকে সর্বদা রক্ষা করছেন। পথে যেতে অনেক কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া গাছ, যা কিনা যাত্রীদেরকে সর্বদা ছায়া দিচ্ছে। অতি অল্প সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যে, অনায়াসে এই জ্যোতির্লিঙ্গ, এই ঐশ্বরিক স্থানটি দর্শন করা যায়।
ভারতের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম ষষ্ঠ জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে পুনেতে অবস্থিত ভীমশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ এবং গুয়াহাটির ডাকিনী পাহাড়ে অবস্থিত ভীমাশঙ্কর ধাম জ্যোতির্লিঙ্গ, এই দুটি স্থান নিয়ে শিবভক্তদের মনে কিছু বিতর্ক এবং বিশ্বাস রয়েছে। আসামের লোকজন এই শিবস্থানকেই ভারতের ষষ্ঠ জ্যোতির্লিঙ্গ বলে মনে করেন।
[সংকলন- প্রত্যক্ষ দর্শন ও গুগল থেকে]

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন