। শৈলেন দাস ।
শহরের ব্যস্ততম ফুটপাতে
অফিস ফেরত আর পাঁচটা মেয়ের মতোই
দাঁড়াত সে ভিড় থেকে একটু তফাতে।
সন্ধ্যার এই সময়টায়
কোন দামী গাড়ির জানালার
কালো কাঁচ অর্ধেকটা নামলেই
চটপট উঠে পড়তো সে
দাম দর হত গাড়িতে বসে।
পরিবার প্রতিপালনের
এই সহজ রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে
একদিন সে হারিয়ে গেল আঁধারে,
যখন ফিরল তখন
আপন বলতে কেউ রইল না সংসারে।
বাবা মারা গেছেন কবেই
যকৃতের ক্যান্সারে,
মা আর দিদিমাও নেই বেঁচে।
ছোট্ট ভাই বোন দুটি এখন কোথায়
ঠিকানা পাওয়া গেল না খুঁজে,
শরিরও বিমুখ তাই নিলোনা খদ্দরে।
বাসিভোগের প্রসাদ যেন
ছুড়ে ফেলা হলো ডাস্টবিনে।
পাড়ার একসময়ের সচল পরিবারের
সেই নষ্ট মেয়েটি এখন থাকে
পরিত্যক্ত রেলের কামড়ায়
পরনে ছেঁড়া শাড়ি, নোংরা
ভাত রাঁধে সে ইটের অস্থায়ী উনুনে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন